কক্সবাজার থেকে রিয়াজ উদ্দিন : বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলা। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুক্রবার মেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না এবং কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মেলায় পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, হোটেল-মোটেল, ট্যুর অপারেটর ও ব্যবসায়ীরা অংশ নিয়েছেন। পর্যটন খাতের সম্ভাবনা, স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বিভিন্ন পর্যটনসেবার তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে মেলার বিভিন্ন স্টলে।
মেলা পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্টরা বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারকে শুধু দেশীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ও সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
তারা জানান, কক্সবাজারকে বিশ্বমানের পর্যটন হাব ও উন্নয়ন কেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেশীয় পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজারে আসার সুযোগ তৈরি হবে। এতে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে এবং আঞ্চলিক পর্যটন যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। সৈকত ও পর্যটন এলাকাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আকর্ষণীয় পর্যটন প্যাকেজ প্রণয়নের জন্য হোটেল-মোটেল মালিক, ট্যুর অপারেটর, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকেরা জানান, তিন দিনব্যাপী এ মেলায় পর্যটন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে পর্যটনকে আরও টেকসই ও জনবান্ধব করার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
