রবিবার | সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ জাতীয় চাঁদাবাজির ‘ঢালাও’ অভিযোগ করেছে সালমান, স্টুডিওর জমি নিয়ে বিরোধ ছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাঁদাবাজির ‘ঢালাও’ অভিযোগ করেছে সালমান, স্টুডিওর জমি নিয়ে বিরোধ ছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগকে ‘ঢালাও’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলের জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করেই সেখানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সম্প্রতি সালমান মুক্তাদিরের নির্মাণাধীন স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা ‘স্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেন এবং বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ায় স্টুডিওতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেউ তাঁকে উদ্দেশ্য করে কথা বলতেই পারেন—এটি গণতন্ত্র ও বাক্‌স্বাধীনতার অংশ। তবে অভিযোগকারী ব্যক্তি এ ঘটনায় কোনো মামলা করেছেন কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি একপর্যায়ে বলেছেন, তাঁর কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। চাঁদা চাইলে তিনি দিতেন—এমন কথাও বলেছেন বলে তিনি শুনেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, যেখানে নির্দিষ্টভাবে কারও বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগই করা হয়নি, সেখানে বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ বলা একটি ঢালাও অভিযোগ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর দিকেও অভিযোগের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করা হলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।

সালমান মুক্তাদির ঘটনাটিতে ভুক্তভোগী হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি পুলিশ দেখেছে এবং এ নিয়ে প্রাথমিক তদন্তও হয়েছে। তবে সেটি খুবই সংক্ষিপ্ত; আরও বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।

তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা, জিডিসহ আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শিগগিরই মামলা হতে পারে, তবে রোববার পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

ঘটনাস্থল সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জায়গাটি ক্যান্টনমেন্ট থানার আওতাধীন মানিকদী নামাপাড়া এলাকায়। সেখানে প্রায় ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক পক্ষ নিউ গিনি প্রপার্টিজ নামের একটি বিল্ডার প্রতিষ্ঠান। অপর পক্ষ একজন অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার পক্ষ। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

প্রাথমিক তদন্তের তথ্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত ওই সামরিক কর্মকর্তার পক্ষের কিছু লোক রাতে সেখানে জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় তারা ওই প্রাঙ্গণে ঢুকে বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালান।

তিনি বলেন, ওই স্থাপনার মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের টিনশেডের একটি স্থাপনাও ছিল। সেখানে কনটেন্ট তৈরির কাজ করা হতো বলে তিনি জানতে পেরেছেন। ওই স্থাপনাতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং বিষয়টি তিনি ভিডিওতে দেখেছেন।

সালমান মুক্তাদিরের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, ফেসবুক লাইভে সালমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে তিনি বলেছেন, কেউ তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেনি; অন্যদিকে বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ বলেছেন। সুনির্দিষ্ট মামলা হলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

বিতর্কিত জমি নিয়ে সংঘর্ষের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ৯৯৯ নম্বরে ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে গুলির খোসা এবং কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের অগ্রগতি হলে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা