সোমবার | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ কক্সবাজার বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড়ানের প্রস্তুতি

কক্সবাজার বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড়ানের প্রস্তুতি

কক্সবাজার থেকে রিয়াজ উদ্দিন : আন্তর্জাতিক আকাশপথে যুক্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার। বঙ্গোপসাগরের ওপর রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণের পর বিমানবন্দরটি এখন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রস্তুত। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০ হাজার ৭০০ ফুট। এর মধ্যে সমুদ্রের ওপর নির্মিত হয়েছে ১ হাজার ৭০০ ফুট। ফলে বড় আকারের ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ, এমনকি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর-এর মতো উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড়ানের প্রস্তুতি

রানওয়ে সম্প্রসারণের সঙ্গে আধুনিক করা হয়েছে এয়ারফিল্ড লাইটিং ব্যবস্থাও। রাত ও বৈরী আবহাওয়ায় উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য রানওয়েটিকে ক্যাটাগরি-২ অপারেশনের উপযোগী করা হয়েছে।

৩৬২ কোটি টাকার টার্মিনাল :

প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটারের আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল। এতে রয়েছে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার, ১০টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক, আধুনিক লাগেজ ব্যবস্থাপনা, এক্স-রে স্ক্যানার, চারটি এসকেলেটর ও ছয়টি লিফট।

আন্তর্জাতিক বহির্গমন লাউঞ্জে একসঙ্গে ৪৫০ জন যাত্রী বসতে পারবেন। হোল্ড ব্যাগেজ ও কেবিন ব্যাগেজের জন্য রয়েছে একাধিক স্ক্যানার। নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ, মেটাল ডিটেকশন ও ইমিগ্রেশন এলাকাতেও আধুনিক সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর এম. মোশাররফ হোসেন বলেন, রানওয়ে, লাইটিং ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে। বিমানবন্দরটি এখন উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত।

বাড়বে যাত্রী সক্ষমতা :

নতুন অবকাঠামো চালু হলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ২০ লাখে উন্নীত হবে। বোর্ডিং ব্রিজ, ব্যাগেজ বেল্টসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে বেবিচক।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের নতুন টার্মিনালের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ইতোমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চীন, নেপাল ও ভুটানসহ কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইনসও কক্সবাজার থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ দেখিয়েছে।

পর্যটনের পাশাপাশি খুলবে বাণিজ্যের দুয়ার :

আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজারে আসার সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি আসতে পারে। চট্টগ্রাম হয়ে বিদেশে পাঠানো শুঁটকি, সবজি ও অন্যান্য স্থানীয় পণ্য ভবিষ্যতে কক্সবাজার থেকেই বিভিন্ন দেশে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক কার্যক্রমকে কার্যকর করতে কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, কার্গো ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিক সুবিধা ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের আওতায় আনার উদ্যোগ নতুন নয়। আগেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার চেষ্টা হলেও তা স্থায়ী হয়নি। এবার বড় পরিসরের অবকাঠামো নির্মাণের পর নতুন করে সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রানওয়ে ও টার্মিনাল প্রস্তুত। এখন অপেক্ষা নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের। পর্যটননির্ভর কক্সবাজারের জন্য নতুন এই আকাশপথ কতটা অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা