কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওরে মাছ ধরা ও রিং জাল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই ইউপি সদস্যের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সালিশের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আলোচনা শুরুর আগেই দুই পক্ষের লোকজন দা, বল্লম ও টেটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪৭ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের ইমামনগর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমামনগর গ্রামের হাওরে মাছ ধরা এবং রিং জাল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি সদস্য হান্নান মিয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল লতিফের স্বজন ও অনুসারীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাও ছিল।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য শুক্রবার সকালে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সালিশে বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বিরোধের বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে তারা ইমাম নগর গ্রামে উপস্থিত হন।
তবে সালিশ শুরু হওয়ার আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গ্রামের সামনের একটি মাঠে দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হয়ে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দা, বল্লম ও টেটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরস্পরের ওপর হামলা চালান। এতে মুহূর্তের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের লোকজন একে অপরকে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া করেন। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও সালিশে আসা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।একপর্যায়ে সংঘর্ষ থেমে যায়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এলাকায় উত্তেজনা যাতে আর না ছড়ায়, সে বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করে।
বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসার জন্য সালিশে বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ জন্য তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ইমাম নগর গ্রামে যান। কিন্তু সালিশের আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ‘গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বসিয়ে রেখেই দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংঘর্ষ থামানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
অষ্টগ্রাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
