সুনামগঞ্জ থেকে আফতাব উদ্দিন : সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা না করে সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধন করা হচ্ছে অভিযোগ করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন বলেছেন, ‘আমরা সাইবার নিরাপত্তা আইন চাই না। এই আইন পাস করলে সাংবাদিক সমাজ বসে থাকবে না।’
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে ‘হাওর অঞ্চলের সাংবাদিকতা ও জুলাই-পরবর্তী গণমাধ্যম’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুর রহমান শাহীন বলেন, দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনেও সাংবাদিকদের বড় ভূমিকা ছিল। তিনি বলেন, সাংবাদিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা না করে সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিক সমাজ এ ধরনের আইন চায় না।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম পরিচালনা করতে হলে সাংবাদিক-কর্মচারীদের ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় হাওরাঞ্চলের সাংবাদিকতার নানা সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ এবং জুলাই-পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) শেরগুল আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম হেলাল।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক জনতার মফস্বল ইনচার্জ জাহাঙ্গীর খান বাবু বলেন, বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করে হাওরাঞ্চলের সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। হাওরাঞ্চলে পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব সম্ভাবনা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে স্থানীয় সাংবাদিকদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলের সাংবাদিকদের অনেক ক্ষেত্রে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয়। তারপরও হাওরাঞ্চলের সাংবাদিকরা অবহেলিত। তাদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পরিবেশ ও উন্নয়নসহ স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে স্থানীয় সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে জুলাই-পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও জনবান্ধব ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, হাওরাঞ্চলে সংবাদ সংগ্রহ করতে সাংবাদিকদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়। নৌযানসহ বিভিন্ন খাতে তাদের নিজেদের অর্থ ব্যয় করতে হয়। অথচ অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিনিধিদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দেয় না। এ কারণে সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
সভায় দৈনিক যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান পীর, দৈনিক সমাচারের জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) জেলা প্রতিনিধি মুহাম্মদ আমিনুল হক, দৈনিক নয়া দিগন্তের জেলা প্রতিনিধি তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, দৈনিক সুনামগঞ্জের সময়-এর সম্পাদক ও প্রকাশক সেলিম আহমেদ তালুকদার, দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিনের স্টাফ রিপোর্টার জয়েন তালুকদার, দৈনিক আমার দেশের জেলা প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন, কালবেলার জেলা প্রতিনিধি কুদরত পাশা, দৈনিক গণকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান, বৈশাখী টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কর্ণ বাবু দাস,দৈনিক জনতার জেলা প্রতিনিধি আফতাব উদ্দীন, সাংবাদিক সালমান ফারসীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
