রবিবার | অক্টোবর ৪, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ হবিগঞ্জে ভারতীয় নারী প্রতারক স্বামীর খোঁজে

হবিগঞ্জে ভারতীয় নারী প্রতারক স্বামীর খোঁজে

লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ : বাংলাদেশি পরিচয় গোপন করে নিজেকে কলকাতার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে ভারতে এক খ্রিস্টান তরুণীকে বিয়ে করার পর স্ত্রীর নামে ব্যাংক থেকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার রুপি ঋণ নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের মিজান মিয়া (২৮) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঋণের কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ নিয়ে স্বামীর খোঁজে বানিয়াচংয়ে এসেছেন ভারতীয় ওই নারী।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, ওই নারী বাংলাদেশে আসার পর থেকে অভিযুক্ত মিজান আত্মগোপনে রয়েছেন এবং কাতারে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ঋণের কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ নিয়ে স্বামীর খোঁজে বানিয়াচংয়ে এসেছেন ভারতীয় ওই নারী।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, ওই নারী বাংলাদেশে আসার পর থেকে অভিযুক্ত মিজান আত্মগোপনে রয়েছেন এবং কাতারে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযুক্ত মিজান মিয়া বানিয়াচং উপজেলা সদরের ১ নম্বর ইউনিয়নের চানপুর বন্দের বাড়ি এলাকার বীমা তাহের মিয়ার ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিজান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভারতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এ সময় নিজেকে কলকাতার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে সিতারা নামে এক খ্রিস্টান তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে ভালোবাসার টানে ওই তরুণী নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং মিজানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর মিজান তার স্ত্রী সিতারার নামে ভারতের এক্সিস ব্যাংক থেকে কয়েক দফায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার রুপি ঋণ উত্তোলন করেন। পরে কলকাতায় মা-বাবার সঙ্গে দেখা করার কথা বলে ঋণের টাকা নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন তিনি। দীর্ঘদিন স্বামীর জন্য অপেক্ষা করেও তার কোনো খোঁজ না পেয়ে একপর্যায়ে ভারতে কর্মরত বানিয়াচংয়ের আরেক শ্রমিক সাইদুর রহমানের কাছ থেকে সিতারা জানতে পারেন, মিজানের বাড়ি কলকাতায় নয়, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে স্বামীর প্রকৃত ঠিকানা সংগ্রহ করে বানিয়াচংয়ে ছুটে আসেন তিনি।

সিতারা জানান, মিজান নিজেকে কলকাতার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তার নামে এক্সিস ব্যাংক থেকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার রুপি ঋণ উত্তোলন করেন। পরে মা-বাবার সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাংলাদেশে চলে আসেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন মিজান। বর্তমানে ব্যাংকের ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ সামলাতে না পেরে স্বামীর খোঁজে বাংলাদেশে এসেছেন তিনি। এ ঘটনায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন ওই নারী।

ভারতে মিজানের সঙ্গে কাজ করা শ্রমিক সাইদুর রহমান বলেন, ভারতে থাকাকালে মিজানের সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন। সিতারার সঙ্গে মিজানের বিয়ে এবং তার নামে ব্যাংকঋণ নেওয়ার বিষয়টি সত্য বলে তিনি জানান।

এদিকে, স্বামীর সন্ধানে কয়েক দফা মিজানের বাড়িতে অবস্থান নেন সিতারা। তবে মিজান বাড়িতে নেই জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মিজান ও সিতারার বিয়ের কাগজপত্র এবং ব্যাংকঋণসংক্রান্ত নথিপত্র তারা দেখেছেন। তাদের দাবি, ঘটনার সত্যতা রয়েছে। সিতারা বানিয়াচংয়ে আসার পর থেকেই মিজান বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। এমনকি তিনি কাতারে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় প্রতারিত ওই ভারতীয় নারীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে তার আইনি অধিকার নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা