বুধবার | অক্টোবর ৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ মুন্সীগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে সহযোগীসহ যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে সহযোগীসহ যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন : মুন্সীগঞ্জে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এক কাজীকে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে যুবদল নেতা রাজীব হোসেন অপু ও তার সহযোগী স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রাজীবকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দিনগত রাতে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রাজীব হোসেন অপু সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি।

পুলিশ জানান, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার কাটাখালী এলাকায় প্রায় ২০ বছর ধরে কাজী হিসেবে নিকাহ পড়ানো ও বিবাহ নিবন্ধনের কাজ করে আসছেন কাজী মো. হাবিবুর রহমান। তিনি দৈনিক মানবজমিনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাহিদ হাসানের বাবা। গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ২ টার দিকে যুবদল রাজীব ও তার সহযোগীরা তিনটি মোটরসাইকেলে করে হাবিবুর রহমানের বাসায় যান। বিয়ে পড়ানোর কথা বলে প্রথমে তাকে কাজী অফিসে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে জোর করে সদর উপজেলার মুক্তারপুর এলাকার একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে সেখানে স্বপন দাবি করেন, তার স্ত্রী ইতি (২৫) গত ১ অক্টোবর কাজী হাবিবুর রহমানের কার্যালয়ে বসে তাকে তালাক দিয়েছেন এবং হাবিবুর রহমান ওই তালাক নিবন্ধন করেছেন। এ নিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তার কাজী হিসেবে লাইসেন্স বাতিল এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি টাকা দিতে রাজি হন। পরে অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ শাখা থেকে নিজের হিসাবের দুই লাখ টাকা উত্তোলন করেন।সেই টাকা তুলে দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় সোমবার রাতেই যুবদল নেতা রাজীব হোসেন অপু ও তার দুই সহযোগী স্বপন (৩৫) ও সোহেলের (৪৫) নাম উল্লেখ এবং আরও

চার পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন কাজী হাবিবুর রহমান।

ভুক্তভোগীর ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। মামলা করলে পরবর্তীতে কী হতে পারে, সে বিষয়েও তাকে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে তিনি কারও রাজনৈতিক পরিচয়কে বিবেচনায় না নিয়ে ঘটনার বিচার চেয়ে মামলা করেছেন বলে জানান।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে রাজীব হোসেন ও স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা