শিবচর থেকে শাখাওয়াত হোসেন মোল্লা : শিবচরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে শিবচর উপজেলার মন্দিরগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি । তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক ও মৃৎশিল্পীরা । ইতোমধ্যে খড় ও মাটি দিয়ে শেষ হয়েছে প্রতিমা তৈরীর কাজ । আর নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পূজার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকেরা ।
এ ব্যাপারে শিবচর পূজা উৎযাপন ফ্রন্ট কমিটির আহবায়ক সংকর ব্যানার্জি বলেন,শিবচরে হিন্দু,মুসলিম কোন ভেদাভেদ নেই আমরা একই সাথে মিলে মিশে অনুষ্ঠান করে থাকি তারা আমাদের সাবিক সহযোগিতা করে। এবার উপজেলায় ৪৪ টি মন্ডবে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরে ৪৭ টি মন্ডবে পূজা হয়েছিল। এবার তিন জনে সমস্যা থাকার কারণে পূজার আয়োজন করতে পারবে না। এরা হলেন,উমেদপুরের যদুপাচ্চঁরের সমীর সাহার বাড়িতে পানি থাকার কারণে পূজা করতে পারবে না। সরকারি সহায়তা হিসেবে ৪৪ জনকে ৬০০ শত কেজি করে চাউল বরাদ্দ দিবেন।
শিবচর উপজেলা পূজা উৎযাপন ফ্রন্ট কমিটির সদস্য সচিব কৃষ্ণ সাহা বলেন, প্রতি বছরের মতো এবার ও জাকজমকপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠান করার প্রস্ততি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।কোন সমস্যা নেই, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান, এবং থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খুব দক্ষ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেন, কোন সমস্যা হবে না। শারদীয়া দূর্গাপূজা উপলক্ষে শিবচরে নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রসাশন ।
পৌরসভা সদর কালিবাড়ি পূজামণ্ডপের পরিচালনায় দ্বায়িত্বে সূর্দশন চক্রবর্তী জানান, শিবচর এবং উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও মন্ডপে ঘুরে দেখা ও জানা গেছে । ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দিন গননা শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের । আর ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী পুজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পুজার আনুষ্ঠিকতা । তাই শিবচর উপজেলার মন্দিরগুলোতে চলছে খড় আর মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরীর কাজ । নাওয়া-খাওয়া আর ঘুম বাদ দিয়ে দেবী দূর্গার সাথে লক্ষী, গনেশ, কার্তিক ও সরস্বতির পাশাপাশি ধর্মীয় দৃশ্যপট ফুটিতে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা ।
এ বছর শিবচর উপজেলায় ৩৫০টি, মন্দির ও মন্ডপ রয়েছে । প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৬শ কেজি করে চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। । ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হবে দেবী দুর্গার আরাধনা । এ ব্যাপারে চন্দন চক্রবর্তী বলেন, মৃৎশিল্পী ভোলা পাল, বাড়ি পাচ্চঁর, দিন-রাত্র কাজ করে ১৫ দিনে কালিবাড়ি পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরি করেছেন।
উপজেলা সদর বাজার কালি বাড়ি মন্দিরের প্রতিমা শিল্পী বলেন, এবছর তিনি ,চারটি প্রতিমা তৈরী করছেন। প্রতি প্রতিমা থেকে মুজুরি ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা নিচ্ছেন বলে জানান । ইতোমধ্যে মন্দিরগুলোতে খড় ও মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ করছেন । দুই তিনদিনের মধ্যে প্রতিমায় রং লাগানোর কাজ শুরু হবে।
শিবচর উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কমিটির সভাপতি অশোক বিশ্বাস বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপজেলা । এ উপজেলায় কখনো সাম্প্রদায়িকতা নষ্ট হয়নি । সকল ধর্মের লোকজনের সহায়তায় শিবচর উপজেলায় পুজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে । এবছর শিবচর উপজেলায় ৪৪টি মন্দিরে পুজা অনুষ্ঠিত হবে। আশাকরি সকলের সহযোগীতায় শারদীয় দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসব যেন সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
মাদারীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো: ফজলে এলাহী বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে আনসারের পাশাপাশি পুলিশ ও সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি থাকবে। এছাড়া এসআরবিসহ অন্যান্য বাহিনীর টহল থাকবে।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মিস মজিনা বলেন, নির্বিঘ্নে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে ইতোমধ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য মনিটারিং সেল গঠন করা হয়েছে। আশা করি সকলের সার্বিক সহযোগিতায় শিবচর হিন্দু ধর্মীয় অন্যতম অনুষ্ঠান দুর্গাপূজা সফলভাবে উদযাপন করতে সক্ষম হব।
