শুক্রবার | অক্টোবর ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ ২০ লাখ টাকার বালু ৫ লাখে নিলাম!

জব্দ বালুর নিলাম ঘিরে বিতর্ক, ডাককারীদের টাকা দেওয়ার অভিযোগ

২০ লাখ টাকার বালু ৫ লাখে নিলাম!

কক্সবাজার থেকে এইচ এন আলম : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ছড়াখালের ছয়টি পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা জব্দ বালুর নিলাম নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ২০ লাখ টাকা বাজারমূল্যের বালু নিলামে বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৫ হাজার টাকায়। এ ছাড়া নিলামে বেশি দর না দেওয়ার জন্য প্রায় ৩০ জন ডাককারীকে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গত কাল বেলা ১টার দিকে খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিখোলা এলাকায় জব্দ করা বালুর স্তূপের স্থানে উন্মুক্ত নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশ নেন। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকায় প্রায় এক লাখ ঘনফুট বালু পেয়েছেন খুটাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. শফিউল আলম শফি বলে জানা গেছে।

উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু জব্দ করার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের স্মারক নম্বর ৩১.৪২.২২১৬.০০০.০২.০১৬.২০২৬-৭৩৭-এর ভিত্তিতে গত ৫ অক্টোবর নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, খুটাখালী ইউনিয়নের হরিখোলা এলাকায় ছয়টি স্তূপে রাখা জব্দ বালু উন্মুক্ত নিলামের আওতায় আনা হয়।

নিলামের দর নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় অভিযোগকারীদের দাবি, জব্দ করা বালুর পরিমাণ ও বাজারমূল্যের তুলনায় নিলামে ওঠা দর অনেক কম। তাঁদের হিসাবে, বালুর বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মাত্র ৫ লাখ ৫ হাজার টাকায় এত বিপুল পরিমাণ বালু নিলামে বিক্রি হওয়ায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া নিলামে অংশ নেওয়া প্রায় ৩০ জন ডাককারীকে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, বেশি দর ওঠা ঠেকাতেই এমন ব্যবস্থা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সাধারণত উন্মুক্ত নিলামের মূল উদ্দেশ্য হলো অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সর্বোচ্চ দর নিশ্চিত করা। তাই নিলামে কতজন অংশ নিয়েছেন, কারা দর দিয়েছেন, দর নির্ধারণের প্রক্রিয়া কী ছিল এবং সর্বোচ্চ দর কীভাবে চূড়ান্ত হয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

ভ্যাট-করসহ পরিশোধযোগ্য অর্থ ৬ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা
নিলামের শর্ত অনুযায়ী, সর্বোচ্চ দরদাতাকে নিলামমূল্যের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ আয়কর জমা দিতে হবে। সে হিসাবে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকার ওপর ভ্যাট বাবদ ৭৫ হাজার ৭৫০ টাকা এবং আয়কর বাবদ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা যোগ হবে।

এতে মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ দাঁড়ায় ৬ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা।
তবে নিলামে বিক্রি হওয়া বালুর প্রকৃত পরিমাণ, গুণগত মান, পরিবহন ও উত্তোলনসংক্রান্ত ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের বাজারদর যাচাই না করে এর প্রকৃত বাজারমূল্য নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

তদন্তের দাবি স্থানীয়দের
স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পদ হিসেবে জব্দ করা বালুর নিলামে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। নিলামে অনিয়ম বা প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ সত্য হলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা