নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার আশুলিয়ায় ডেকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে কর্মরত নারী পোশাকশ্রমিক সুমি আক্তার ওরফে মিশুর (২৭) মৃত্যুর ঘটনায় তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। কারখানার সিসিটিভি ফুটেজে এক কর্মকর্তার সঙ্গে ওই শ্রমিকের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির দৃশ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এদিকে নিহতের স্বামীর লিখিত অভিযোগের পরও গ্রেপ্তার না হওয়ায় তদন্তের অগ্রগতি ও পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে আশুলিয়ার কাঠগড়া নয়াপাড়ায় অবস্থিত কারখানাটির সুইং ফ্লোরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিশুর গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খোকারহাট এলাকায়। স্বামী সাজ্জাদ হোসেন ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি আশুলিয়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পরিবার ও শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও মিশুকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজে বাধ্য করা হয়েছিল। কর্মস্থলে তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং মৃত্যুর সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে কর্মরত অবস্থায় এক পুরুষ কর্মকর্তাকে মিশুর দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তা তাঁর ওয়ার্কস্টেশনে আঘাত করেন এবং কাজের কাপড় কেড়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিকেল ৫টা ১ মিনিটের দিকে মিশু ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে প্রথমে কারখানার মেডিকেল সেন্টার এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া না পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। একই সঙ্গে ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তা নির্ধারণে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মিশুর স্বামী সাজ্জাদ হোসেন এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু ঘটনার তিন দিন পরও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার প্রক্রিয়া চলমান। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও তদন্তের কোন পর্যায়ে রয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ আনুষ্ঠানিকভাবে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্যের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, ডেকো গ্রুপ কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত লাইন সুপারভাইজারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এবং সাময়িক বরখাস্ত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা থেকে কর্তৃপক্ষের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।
একজন শ্রমিকের কর্মস্থলে মৃত্যুর ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি। সিসিটিভি ফুটেজে কী ঘটেছে, শ্রমিকের মৃত্যুর আগে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল কি না এবং অভিযোগের পরও কেন এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি—এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে তদন্তের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর।
