মঙ্গলবার | অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ এলজিইডির সড়ক নির্মাণে পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও জনগণের কাছ থেকে টাকা তুলে এবার তোপের মুখে

শ্রীপুরে আ,লীগ নেতা ইউপি সদস্যের কাণ্ড :

এলজিইডির সড়ক নির্মাণে পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও জনগণের কাছ থেকে টাকা তুলে এবার তোপের মুখে

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুরে এলজিইডির সড়ক নির্মাণে পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও জনগণের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা তুলে এবার তোপের মুখে করেছেন এক ইউপি সদস্য।

উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে এলজিইডির আওতাধীন একটি সড়ক নির্মাণের কথা বলে স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তার এ চাঁদাবাজি থেকে বাদ যায়নি প্রবাসীরাও। সড়ক নির্মাণে পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ থাকার পরও এভাবে টাকা নেওয়ারকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযুক্ত জাকির হোসেন প্রহলাদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ৮নং ওয়ার্ড শাখার সভাপতি এবং একই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা হতে নিমনিয়া সড়কে এলজিইডি ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বরাদ্দে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার কথা ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৬ সালের ৩০ জুন। কিন্তু ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে রাস্তার কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির আওতাধীন সড়কটির নির্মাণকাজের জন্য সরকারি পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও রাস্তা নির্মাণের কথা বলে জনগণের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে চাঁদা উঠানো হয়েছে।সরকারি বরাদ্দের বাইরে এলাকাবাসীকে ভূল বুঝিয়ে অতিরিক্ত অর্থ কেন সংগ্রহ করা হয়েছে, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে । এলাকার সর্বসাধারণকে মিথ্যা ও ভুল বুঝিয়ে অনৈতিক ভাবে টাকা উত্তোলন কে কেন্দ্র করে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

চরদমদমা গ্রামের ইসমাঈল মোল্লা জানান,এই গ্রামের অবহেলিত সড়কটি নির্মাণের সরকারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই বলে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ভুল বুঝিয়ে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। পরে আমরা জানতে পেরেছি সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং আমাদের টাকা তারা খরচ করেনি।

চরদমদমা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী গুলজার মোল্লা জানান,আমরা প্রবাসে থেকে অনেক কষ্টে টাকা উপার্জন করি। জাকির মেম্বার আমাদেরকে ভুল বুঝিয়ে জনগণের দুঃখ দুর্দশার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। এখন ফেসবুক এবং বিভিন্ন লোক মাধ্যমে জানতে পারলাম তারা এই টাকা রাস্তায় খরচ করেনি। অনৈতিক এই কাজের জন্য আমরা তাদের বিচার চাই। এছাড়াও আমেরিকা প্রবাসী আব্দুস সালামের কাছ থেকেো ৫০ হাজার টাকা এবং ইসমাইল মোল্লার নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। এভাবে ওই গ্রামের বিভিন্ন বৃত্তশালী এবং নিম্ন মধ্য পরিবারের কাছ থেকে রাস্তা তৈরীর জন্য টাকা উঠিয়েছেন।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, আমি এই টাকা একা উঠাইনি, আমাদের গ্রামের শহীদুল্লাহ ডালি এবং মোফাজ্জল হোসেনসহ আমরা টাকা উঠেয়েছি এবং মোফাজ্জল হোসেনের একাউন্টে টাকা রাখা হয়েছে। রাস্তা নির্মাণের কথা বলে টাকা তুলে একাউন্টে কেন রেখেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পরবর্তীতে টাকাগুলো খরচ করবো।

শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজে কর্মরত চরদমদমা গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন বলেন, রাস্তার জন্য উঠানো টাকা আমার একাউন্টে রাখা হয়েছে তবে কত টাকা তা আমি এই মুহূর্তে বলতে পারবো না।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ জানান, এলজিডির অর্থায়নে এ রাস্তা নির্মাণে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ রাস্তার জন্য জনগণের টাকা উঠানোর কোন প্রশ্নই আসে না এবং টাকা উঠানো হয়েছে এমন তথ্য আমার জানা নেই। তবে সরকারের বরাদ্দকৃত টাকায় নির্মিত রাস্তার জন্য জনগণের কাছ থেকে কেউ টাকা উঠালে এটা নেহাতই চাঁদাবাজি এবং অন্যায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জরিত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হোক এবং জনগণের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা