স্টাফ রিপোর্টার : সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা আইন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্পষ্ট দায়িত্ব এবং আইন বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত বক্তারা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর উদ্যোগে ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন: বর্তমান প্রেক্ষিত ও সরকারের অঙ্গীকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ আলোচনা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও কী নোটস উপস্থাপন করেন নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ।
গোলটেবিল বৈঠকের শুরুতে কানাডা থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়।
তিনি বলেন, আমরা সরকারকে এই মর্মে সাধুবাধ জানাতে চাই সড়কে নিরাপত্তা সসংহত করতে নিসচার স্বপ্নদ্রষ্টা ইলিয়াস কাঞ্চনের দীর্ঘদিনের চাওয়া সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। আমি আশা করবো আজকের গোলটেবিল বৈঠকের সারসংক্ষেপসহ অংশীজনদের মতামতের আলোকে ২০২৭ সালের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়িত হবে।
এরপর নিসচার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন। প্রিয় দেশ থেকে দূরে থাকলেও আমার মন পড়ে আছে আপনাদের কাছে, নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের কাছে। আমার অসুস্থতার সময়ে যাঁরা খোঁজ নিয়েছেন, ভালোবাসা জানিয়েছেন এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের এই ইতিহাস কোনো ব্যক্তির একার নয়, এটি সড়কে স্বজন হারানো মানুষের, নিসচার নিবেদিত কর্মীদের এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে কণ্ঠ তোলা দেশবাসীর সম্মিলিত ইতিহাস। তাই নিসচাকে তার ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করা, এর অবদান আড়াল করা কিংবা ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের প্রতিষ্ঠিত তাৎপর্যকে মুছে ফেলা বা বিকৃত করার যেকোনো প্রচেষ্টা আমি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।
দীর্ঘদিনের আন্দোলন, ত্যাগ ও প্রামাণ্য ইতিহাসকে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে মুছে ফেলা যায় না। যারা ইতিহাস ও অবদান নিয়ে কথা বলবেন, তাঁদের কাছে আমার আহ্বান তথ্য, নথি ও সত্যের ভিত্তিতে কথা বলুন। নিসচার ভূমিকা বা ২২ অক্টোবরের তাৎপর্যকে খাটো করে দেখানোর কোনো চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ইতিহাসকে বিকৃত হতে দেওয়া হবে না। বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৩৩ বছর ধরে নিসচা সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি, দুর্ঘটনা প্রতিরোধের দাবি এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় নিরাপদ সড়ক চাই স্লোগান ধারন করে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়িত হয়। নিসচা বর্তমানে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকারের উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে এবং সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এরপর নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ গোল টেবিল বৈঠকে নিসচার পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর অভিজ্ঞতা, প্রস্তাবিত সড়ক নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজনীয়তা, নিরাপদ ব্যবস্থা পদ্ধতি, দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, সড়ক নিরাপত্তার পাঁচটি স্তম্ভ এবং আইন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা তুলে ধরেন।
গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের অধ্যাপক ও সড়ক বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি শামসুল আলম, ব্র্যাকের রোড সেইফটি প্রোগ্রামের ম্যানেজার, সাবেক অতিরিক্ত সচিব খালেদ মাহমুদ, সড়ক বিশেষজ্ঞ তাইফুর রহমান, আইইউবি-এর ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরান উল বাসেতসহ আরও অনেকে।
