শনিবার | অক্টোবর ৩১, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ ইনানীতে দেশের ৩১তম গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনা, মিলতে পারে তেলও

ইনানীতে দেশের ৩১তম গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনা, মিলতে পারে তেলও

রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার : কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে সৃষ্ট আগুন চার দিনেও নেভেনি। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন আগুন দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন শত শত মানুষ। এরই মধ্যে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সেখানে গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি ভূগর্ভে তেলের মজুত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সবকিছু ঠিক থাকলে ইনানী হতে পারে দেশের ৩১তম গ্যাসক্ষেত্র।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে পেট্রোবাংলা ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে বাপেক্সের ভূতত্ত্ব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এখানে গ্যাসক্ষেত্র থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে গ্যাসের নির্গমন ও আগুনের তীব্রতা না কমলে উপযুক্ত পদ্ধতিতে গ্যাস নির্গমনের পথ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাপেক্সের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিজস্ব সক্ষমতাতেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। আপাতত বাইরের কোনো সহায়তার প্রয়োজন নেই। তবে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

এ সময় উপস্থিত পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, রাতে অগ্নিশিখার রং পর্যবেক্ষণ করতে ঘটনাস্থলে এসেছেন তাঁরা। আগুনের শিখায় কালচে ভাব থাকায় সেখানে তেলের উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে আগুনের উৎস ও আশপাশের ২০০ মিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাতে উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারের স্বাক্ষরিত আদেশে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে।

নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের আশপাশে আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দেশলাই ও লাইটার ব্যবহারসহ স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে—এমন সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে মেরিন ড্রাইভ থেকে ইনানী ও কোটবাজারে যাতায়াতের দুটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কে কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে ইনানী মেরিন ড্রাইভের ছোট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ খননের সময় হঠাৎ গ্যাস বের হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে আগুনের তীব্রতা কম থাকলেও বিকেল পাঁচটার পর তা বাড়তে থাকে। প্রথম দিকে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে তাতে কোনো সুফল মেলেনি।

চার দিন ধরে জ্বলতে থাকা এই আগুন এখন শুধু স্থানীয়দের উদ্বেগের কারণ নয়, বরং দেশের নতুন গ্যাস ও সম্ভাব্য তেলসম্পদের সন্ধান ঘিরে নতুন আশারও জন্ম দিয়েছে। তবে ইনানীতে প্রকৃতপক্ষে গ্যাস বা তেলের মজুত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী অনুসন্ধানের অপেক্ষা করতে হবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা