চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: ভারত থেকে আমদানি করা ১০ হাজার ৮৭৮ টন সিদ্ধ চালের চালানে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাত্রায় কোনো অ্যাফ্লাটক্সিন পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ও ভারতের পৃথক পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করে চালের নিরাপদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফলে পুরো চালান খালাস করে খাদ্য অধিদপ্তরের গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের কলকাতা বন্দর থেকে ১০ হাজার ৮৭৮ টন সিদ্ধ চাল নিয়ে ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজ থেকে চালের নমুনা সংগ্রহ করে খাদ্য অধিদপ্তরের নিজস্ব পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়।
তবে চাল খালাসের সময় কিছু বস্তায় থাকা চালের রং ও দানার গঠন নিয়ে সামান্য আপত্তি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ১৩৫ টন চাল আলাদাভাবে বাছাই করে খালাস করা হয়। পরবর্তী সময়ে মান যাচাইয়ের জন্য ওই চালের নমুনা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং ভারতে পাঠানো হয়।
খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উভয় দেশের পরীক্ষাগারেই নমুনা পরীক্ষায় ক্ষতিকর অ্যাফ্লাটক্সিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। পরীক্ষার ফলাফলে চালগুলো ব্যবহারের উপযোগী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে ওই ১৩৫ টন চালসহ পুরো চালান খাদ্য অধিদপ্তরের গুদামে সংরক্ষিত রয়েছে।
এ বিষয়ে চাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় এজেন্ট সেভেন সিজ শিপিং লাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আলী আকবর বলেন, তাদের ভারতীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে সুনামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের যেকোনো বৈধ ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তারা সবসময় পূর্ণ সহযোগিতা করে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, আমদানি করা চালটিতে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদান নেই বলে তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
খাদ্য অধিদপ্তরের পরীক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের পৃথক পরীক্ষাগারের ফলাফলও চালের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
