শনিবার | অক্টোবর ৩১, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ মাধবপুর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের যৌন হেনস্তার অভিযোগ, মানববন্ধন

মাধবপুর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের যৌন হেনস্তার অভিযোগ, মানববন্ধন

লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মী ও ছাত্রীদের যৌন হেনস্তা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক গত দুই দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে আত্মগোপন করেছেন এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভিকটিমদের বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে কন্যা সন্তান ও নারী সহকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে শুক্রবার বিকালে এলাকাবাসী ও ‘মানবিক ফাউন্ডেশন’-এর ব্যানারে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের জালুয়াবাদ গ্রামের মৃত গোলাপ খানের ছেলে আলাউদ্দিন খান শাহপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (জুনিয়র স্তর পর্যন্ত অনুমোদিত) ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। বিদ্যালয়টিতে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য খণ্ডকালীন নারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন এলাকার শিক্ষিত ও অসহায় মেয়েদের টার্গেট করে স্কুলে নিয়োগ দিতেন। নিয়োগের পর বেতন বাড়িয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এবং শুক্র ও শনিবার স্কুল বন্ধের দিনে নির্জনে অফিসে আসার প্রস্তাব দিতেন তিনি। শুধু সরাসরিই নয়, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারেও একাধিক নারী সহকর্মীকে আপত্তিকর ইঙ্গিত দিয়ে কুপ্রস্তাব পাঠাতেন ওই শিক্ষক। ভুক্তভোগী নারী শিক্ষিকাদের পাঠানো এমন বেশ কিছু অসামাজিক ও আপত্তিকর বার্তার স্ক্রিনশট প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

অভিযোগে আরও জানা যায়, স্কুল ছুটির পর বিকেলে নির্জনে একা দেখা করা, এসি রুমে সময় কাটানো এবং ঈদে শাড়ির মডেল পাঠানোর মতো নানা প্রলোভন ও বিকৃত লালসার শিকার হয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নারী সহকর্মীরা। লোকলজ্জা ও ইজ্জত বাঁচাতে এ পর্যন্ত ৬ থেকে ৭ জন নারী শিক্ষিকা নীরবে চাকরি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সম্প্রতি ওই স্কুলের দুইজন খণ্ডকালীন শিক্ষিকা প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক উত্ত্যক্তকরণ সহ্য করতে না পেরে চাকরি ইস্তফা দেন।

প্রধান শিক্ষকের এমন বিকৃত আচরণের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয়ে পড়ুয়া সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীদের অভিভাবকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও তার লালসার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে একটি কুচক্রী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য হেনস্তার শিকার খণ্ডকালীন শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের মুখ বন্ধ রাখতে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা এবং একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

এলাকার সচেতন মহলের দাবি, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিদ্যালয়ে নারী ও শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা