মঙ্গলবার | নভেম্বর ৩, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশঢাকা আশুলিয়ায় ন্যূনতম মজুরিসহ বিভিন্ন দাবিতে ৪র্থ দিনেও শ্রমিক বিক্ষোভ

সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও ১২ জন আটক

আশুলিয়ায় ন্যূনতম মজুরিসহ বিভিন্ন দাবিতে ৪র্থ দিনেও শ্রমিক বিক্ষোভ

আশুলিয়া প্রতিনিধি : তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার প্রধান শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় টানা চতুর্থ দিনের মতো তীব্র বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভ সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করলে শিল্পাঞ্চলটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩টি মামলা দায়েরের পাশাপাশি ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে বাইপাইল-
আব্দুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা জমায়েত হতে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে যথারীতি বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিলেও কয়েকটি কারখানায় কাজ বন্ধ রেখে অসন্তোষ দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় হা-মীম গ্রুপের একটি কারখানার সামনে সড়কে টায়ার ও প্লাস্টিকজাতীয় বস্তুতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে পুলিশ বাঁধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরবর্তীতে ইউনিক ও নিশ্চিন্তপুর এলাকাতেও সড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হলে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

ঢাকা শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিক অসন্তোষের জের ধরে পরিস্থিতি বিবেচনায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত ১০টি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে অবস্থান নিচ্ছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, চলমান বিক্ষোভের সময় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আশুলিয়া থানায় ইতোমধ্যে দুটি মামলা হয়েছে। এছাড়া সাভার মডেল থানায় আরও একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ১২ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শ্রমিক বিক্ষোভের অন্তরালে ইন্ধনদাতা ও অর্থের জোগানদাতাদের শনাক্তে ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।

তিনি বলেন,”শ্রমিকদের দাবি আদায়ের নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রয়েছে,যা অনুসরণ না করে হঠাৎ এই অসন্তোষ তৈরি করা হয়েছে। ছদ্মবেশে বাইরে থেকে আসা কিছু বিশৃঙ্খলাকারীকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”তিনি আরও উল্লেখ করেন, “গত ১৭ বছর ধরে মানুষ হেলমেট বাহিনীর সাথে পরিচিত। তবে সম্প্রতি বোরকা ও হিজাব পরিধান করেও একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।”একই প্রসঙ্গে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিক্ষোভে কারা সরাসরি সহায়তা করছে, উসকানি দিচ্ছে বা অর্থের জোগান দিচ্ছে—তা নিজস্ব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের কঠোর অবস্থান ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা