শরীয়তপুর থেকে নুরুজ্জামান শেখ : শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে মাদকাসক্ত স্বামীর হাতে খুন হলেন স্ত্রী লামিয়া। নির্মমভাবে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হওয়াকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরে চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২ নভেম্বর ২০২৬ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শরীয়তপুর ডামুড্ডা উপজেলার করেশ্বর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কনেশ্বর গ্রামে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হয়।।
সরেজমিন ঘুরে ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে,মাদকাসক্ত স্বামীর হাতে খুন হওয়া লামিয়া আক্তার (১৯) ডামুড্ডা উপজেলার ৬ নং ওয়ার্ডের সুতল কাঠি গ্রামের আল আমিন মাদবরের বড় মেয়ে।
২০১৯ সালে লামিয়া আক্তার (১৩)কনেশ্বর ইউনিয়নের মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। মাদ্রাসায় যাতায়াতের সময় লামিয়া আক্তার কে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করতো একই ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কনেশ্বর গ্রামের আজগর আলী ছৈয়ালের পুত্র রবিউল ছৈয়াল (২৫)।
পরবর্তীতে উভয়ই দুইজনের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। প্রেমের সম্পর্ককে আরো গভীর করতে দুজনে ঘুরতে গেলে অপ্রীতিকর অবস্থায় ২০১৯ সালে স্থানীয়রা রেজিস্ট্রেশন বিহীন ইসলামী শরীয়া মোতাবিক বিয়ে পরিয়ে দেন। ২০১৯ সালে লামিয়া আক্তারের বয়স ছিল ১৩।পরিবার সূত্রে জানা গেছে বিয়ের পর থেকেই মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ে রবিউল শৈয়াল। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়ে ইয়াবা মাদক ব্যবসার সাথে। শুরু হয় পরিবারের নানান কলহ। মাদক বিক্রি এবং মাদক সেবন থেকে স্বামীকে বিরত রাখার জন্য বাধা দিতে গিয়ে স্বামী রবিউলের হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন স্ত্রী লামিয়া আক্তার।
লামিয়া আক্তার এর বাবা আল আমিন মাদবর গণমাধ্যমকে বলেন, আমার মেয়ে ২০১৯ সালে মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় পড়তো। তখন তার বয়স মাত্র ১৩। তখন থেকে বখাটে রবিউল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থান উত্ত্যক্ত করতো এবং প্রেমের প্রস্তাব দিত।ভয় ভীতি দেখাতো। একসময় প্রেম করতে বাধ্য হয় আমার মেয়ে। ঘুরতে গেলে স্থানীয়রা বিয়ে পুড়িয়ে দেয়। তবুও আমি তাদের সম্পর্কে মেনে নিয়েছি। পরবর্তীতে জানতে পারলাম জামাই রবিউল ইয়াবা মাদক ব্যবসা করে। এবং মাদক সেবন করে। মাদক সেবন করে আমার মেয়েকে অত্যাচার করত। মেয়ে আমাদেরকে বলতো না ভয়ে। এভাবেই চলতেছিল তাদের সংসার।
মাঝেমধ্যেই আমার মেয়েকে মারধর করতো নেশাগ্রস্ত অবস্থায়।আমার মেয়ের ঘরে নাতি আছে তার বয়স মাত্র দুই বছর চার মাস। জামাই নেশাগ্রস্ত ও মাদক ব্যবসার কারণে জামাই রবিউলের সাথে রাগ করে নাতিকে নিয়ে আমাগো বাড়িতে চলে আসে গত ১ তারিখে। গত ২ নভেম্বর জামাই সকালে আমাগো বাড়িতে গিয়ে মেয়ে এবং নাতিকে আনতে গেলে মেয়ে না আসায় রবিউল আমার নাতি রাফসান কে না বলে নিয়ে যায়। ওই দিনেই আমার মেয়ে কান্নাকাটি করে ডামুড্যা থানায় গিয়ে নাতি রাফসান কে আনার জন্য থানা একটি অভিযোগ করেন। ঐদিন সন্ধ্যা সাতটায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়টি মিট করে দেন। জামাই রবিউল আমার মেয়েকে কাঁধে হাত দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে জামাইগো বাড়ির ঘাটায় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে অন্ধকারের ভিতর ধারালো ছুরি দিয়ে গলার ঢোরে পোজ দিয়ে পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। হাত পায়ের রগ কেটে দেয়। আমার ছোট ছেলে ঘটনাটি দেখে দৌড়ে এসে আমাকে জানায়। আমরা তখন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে লামিয়া আক্তার রক্তাক্ত অবস্থায় ডোবার পারে পড়ে আছে। আমার মেয়ের শাশুড়ি এবং আমরা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় আমার মেয়েকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।আমরা পরবর্তী জানতে পারলাম আমার মেয়েকে হত্যা করে জামাই রবিউল থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন এবং হত্যার স্বীকার করেন। আমার মেয়ে লামিয়ার লাশটি পোস্টমর্টেমের জন্য হাসপাতাল মরগে আছে।আমরা এ নরপিচাছ হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।
ডামুড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে বলেন, রবিউল আত্মসমর্পণ করেননি। স্ত্রীকে হত্যা করে থানার আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে ছিল। আমাদের সন্দেহ জনক মনে হলে আমার পুলিশ সন্দেহজনক ব্যক্তিকে থানায় ডেকে আনে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করি। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে লামিয়া হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য। লামিয়ার বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
