বুধবার | নভেম্বর ৪, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ মহেশখালী-কক্সবাজার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ, বদলে যেতে পারে যোগাযোগ ব্যবস্থা

১৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব :

মহেশখালী-কক্সবাজার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ, বদলে যেতে পারে যোগাযোগ ব্যবস্থা

এইচ এন আলম, কক্সবাজার : উত্তাল সাগরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্পিডবোটে পারাপার কিংবা চকরিয়া ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে মহেশখালীবাসী। মহেশখালী-কক্সবাজার চ্যানেলের ওপর চার লেনের সড়ক সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের সম্ভাব্য এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে মহেশখালীর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) উদ্যোগে প্রস্তাবিত এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মহেশখালী ও মাতারবাড়ীর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শিল্পাঞ্চলের জন্য সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেতু ও চার লেনের সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে কক্সবাজার সদর থেকে মহেশখালী যাতায়াতে সময় উল্লেখ যোগ্যভাবে কমে আসবে। বর্তমানে নৌপথে আবহাওয়া ও নৌযানের ওপর নির্ভর করে যাতায়াত করতে হয়। অন্যদিকে সড়কপথে চকরিয়া ঘুরে যেতে দীর্ঘ সময় লাগে।

সরাসরি সেতু নির্মিত হলে প্রায় ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটারের সংযোগপথে ১৫ থেকে ২০ মিনিটে যাতায়াতের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এতে শুধু সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে না, জরুরি রোগী পরিবহন, পণ্য সরবরাহ, পর্যটন ও শিল্পকারখানার কার্যক্রমেও গতি আসবে।

বর্ষা মৌসুম কিংবা বৈরী আবহাওয়ায় নৌযান চলাচল বন্ধ থাকলে মহেশখালীর মানুষের যে ভোগান্তি তৈরি হয়, সেতুটি নির্মিত হলে তা অনেকাংশে কমে আসবে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মহেশখালী ও মাতারবাড়ীকে ঘিরে দেশের জ্বালানি, বন্দর ও শিল্প অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে লবণ, শুঁটকি, চিংড়ি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন সহজ হবে। পাশাপাশি পর্যটন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকল্পটির প্রাক্‌সমীক্ষা ও সম্ভাব্য রুট নির্ধারণের কাজ চলছে বলে প্রচারিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০৩১-৩২ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সম্ভাব্য লক্ষ্য এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক অর্থায়নের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয়, অর্থায়ন, নির্মাণকাল ও বাস্তবায়ন সময়সীমা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে।

স্থানীয়দের মতে, মহেশখালী ছাড়াও কুতুবদিয়া, চকরিয়া ও কক্সবাজারের মানুষের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব, সম্ভাব্য ব্যয়, অর্থনৈতিক লাভ এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা