সোমবার | নভেম্বর ৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ ৭ই নভেম্বরের চেতনায় যেকোনো ষড়যন্ত্র কঠোর হস্তে দমন করা হবে : খায়রুল কবির খোকন

৭ই নভেম্বরের চেতনায় যেকোনো ষড়যন্ত্র কঠোর হস্তে দমন করা হবে : খায়রুল কবির খোকন

নরসিংদী প্রতিনিধি: বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ সদর আসনের এমপি খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য অতীতে যেমন চক্রান্ত হয়েছে, এখনও গভীর চক্রান্ত চলছে। তবে ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে যেকোনো ধরনের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

তিনি আজ রবিবার বিকেলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে নরসিংদী জেলা বিএনপি’র আয়োজিত কাউরিয়া পাড়া ঈদমাঠে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।

খায়রুল কবির খোকন আরো বলেন, জিয়াউর রহমান বীর উত্তম শুধু একাত্তরের মহান স্বাধীনতার ঘোষণাই দেননি, তিনি নিজে হাতে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। যুদ্ধ শেষে তিনি লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে আবার ব্যারাকে ফিরে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষ তাকে আবার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বসিয়েছিল। কারণ তাঁর নেতৃত্ব ছাড়া দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব ছিল না। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা ‘বাকশাল’ কায়েম করেছিল। মাত্র তেরো মিনিটের ব্যবধানে সংসদীয় গণতন্ত্রের কবর রচনা করে মানুষের মুখ ও বাকস্বাধীনতার ওপর শৃঙ্খল পরানো হয়েছিল। সেই সময় দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে এবং রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে দেশকে ধ্বংসের কিনারায় দাঁড় করানো হয়েছিল। শুধু সরকারি চারটি পত্রিকা বাদে সব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি একটি বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে আমাদের জাতিসত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন আমরা ভাষায় বাঙালি হলেও জাতিতে বাংলাদেশি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে খোকন বলেন, “শেখ হাসিনার সরকার ইতিহাস বিকৃত করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিল। তারা ৭ই নভেম্বরের রাষ্ট্রীয় ছুটিও বাতিল করেছিল। কিন্তু ইতিহাস বড় নির্মম, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। যারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি, আজ তাদের করুণ পরিণতি হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার কারণে আজ তারা ক্ষমতাচ্যুত ও দলীয়ভাবে বিপর্যস্ত। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৭ই নভেম্বরের ছুটি পুনর্বহাল করেছে।এসময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী ৩(শিবপুর)সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী, নরসিংদী ৫(রায়পুরা) সংসদ সদস্য আশরাফ উদদীন বকুল, জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার,সহ-সভাপতি একেএম গোলাম কবির কামাল , ফারুক উদ্দিন ভূইয়া,রবিউল ইসলাম রবি, খবিরুল ইসলাম বাবুল,দ্বীন মোহাম্মদ দীপু,আতাউল ইসলাম বাবুল, মহসিন হোসাইন বিদ্যুৎ, ইলিয়াস আলী ভূঁইয়া, সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ, আব্দুর রউফ ফকির রনি সহ দলের অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে কাউরিয়া পাড়া ঈদমাত্র থেকে একটি বিশাল র‌্যালি বের হয়ে শহরের পৌরসভা মোড় সহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্টেশন রোড এসে শেষ হয়।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা