এন.এম হামিদী বাবু নীলফামারীঃ উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপ মোকাবিলায় ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৩ টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে সকাল ৬ টায় বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার রের্কড করা হয় ও সকাল ৯ টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার। যা (বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) যা বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং দুপুর ১২ টায় বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয় ।
এদিকে হঠাৎ করে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু নিম্নাঞ্চল দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে তিস্তা পাড়ের চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। তিস্তার পানি আরও বাড়তে থাকলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। নদী তীরবর্তী এলাকায় মানুষের জানমাল রক্ষার নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা।
ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই এলাকার বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, আর একটু বৃদ্ধি পেলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে আমরা ভয়ে আছি।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী দৈনিক জনতাকে বলেন, বিকেল ৩ টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর আগে সকাল ৯ টায় পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ও দুপুর ১২ টায় বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। সমায় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি আরও বাড়তে শুরু করে । পানি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
