রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার থেকে : কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৯ হাজার ৮২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক নারী যাত্রীকে আটক করেছে সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা বিভাগ। উদ্ধারকৃত ইয়াবার চালান ও আটক ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, শনিবার কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী নভোএয়ারের ফ্লাইট (VQ-৯২২)-এ যাত্রার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে আসেন জেসমিন আক্তার (৩৫) নামের এক নারী। তিনি বোর্ডিং পাস সংগ্রহের পর নিয়মিত নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তার হোল্ড লাগেজ স্ক্যানিং করা হয়।
স্ক্যানিংয়ের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল এভিয়েশন নিরাপত্তা কর্মী রাকেশ ঘোষ যাত্রীর একটি ল্যাপটপ ব্যাগে অস্বাভাবিক কিছু শনাক্ত করেন। পরে ব্যাগটি বিস্তারিত তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, ব্যাগের দুই পাশের শকপ্রুফ ফোমের ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে সেলাই করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
তল্লাশি শেষে ব্যাগ থেকে মোট ৯ হাজার ৮২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকেই জেসমিন আক্তারকে আটক করা হয়।
আটক জেসমিন আক্তার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ণহাট এলাকার চাঁদপুর শ্বেতছড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মৃত হারুন মিয়া এবং মাতা মৃত শাহেনা আক্তার।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য এবং আটক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরসহ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত স্ক্যানিং ও নজরদারির ফলে এ ধরনের মাদক চালান শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে, যা মাদকবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ছবির ক্যাপশন: কক্সবাজার বিমানবন্দরে ল্যাপটপ ব্যাগের শকপ্রুফ ফোমের ভেতর থেকে উদ্ধার করা ৯,৮২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং আটক নারী যাত্রী।
