নরসিংদী প্রতিনিধিঃ তীব্রগ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় নরসিংদীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা দিয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন।গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। তারা বলছেন, সেসব ফিলিং স্টেশন এখনো গ্যাস দিচ্ছে সেখানে চাপ খুব কম। কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে গ্যাস বিক্রিও বন্ধ রাখা হয়েছে।
চালকদের অভিযোগ, ভোর থেকেই গ্যাস নেওয়ার জন্য ফিলিং স্টেশনের সামনে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেক সময় দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ে গাড়ি চালাতে না পারায় কমে যাচ্ছে আয়। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আর্থিক কষ্টে পড়েছেন।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. রাকিব হোসেন বলেন, “খুব সকালে গ্যাস নিতে গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছি। কখন গ্যাস পাব, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে করতে দিনের অর্ধেক সময় চলে যাচ্ছে। এরপর গাড়ি চালানোর সময়ও থাকে না। আমাদের আয় কমে গেছে, কিন্তু সংসারের খরচ তো কমেনি।”
অপর সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. সেলিম মিয়া বলেন, “গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে যাত্রীও হারাতে হচ্ছে। অনেক সময় যাত্রীরা অপেক্ষা না করে অন্য গাড়িতে চলে যাচ্ছেন। এতে আমাদের আয় কমে যাচ্ছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আমাদের মতো নিম্নআয়ের চালকদের দুর্ভোগ বাড়বে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গ্যাস সংকটের কারণে চালকদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় জরুরি কাজে যাওয়ার জন্যও সহজে সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষর দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা উচিত।”
সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “অনেক সময় চালককে গ্যাস নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে যাত্রীদের যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, চালাকদেরও তেমন আর্থিক ক্ষতি হয়। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাব।”
এপেইস ফিলিং লিমিটেডের ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ ইকবাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান , “গ্যাস নিতে আসা বিপুল সংখ্যক যানবাহনের চাপ সামলাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও চার থেকে পাঁচদিন সময় লাগতে পারে।”
