বি এম রাকিব হাসান, খুলনা : সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বেড়েছে। বন বিভাগের সর্বশেষ ক্যামেরা ট্র্যাপ জরিপে বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনে ১২৫টি পূর্ণবয়স্ক বাঘ ও ১৯টি শাবকের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। গত এক দশকে এটি বাঘ সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
তবে এই আশাবাদের আড়ালেই সামনে এসেছে নতুন উদ্বেগ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের অধিকাংশ বাঘের শরীরে বাসা বেঁধেছে একাধিক পরজীবী। একই সঙ্গে শনাক্ত হয়েছে এমন কয়েক ধরনের ব্যাকটেরিয়া, যেগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত অনেক অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। অন্যদিকে ছয় মাস চিকিৎসার পর বনে অবমুক্ত করা একটি বাঘিনীর ১৬ দিনেও কোনো সন্ধান না মেলায় সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থাৎ, শুধু বাঘের সংখ্যা বাড়লেই সংরক্ষণের সাফল্য নিশ্চিত হয় না; তাদের সুস্বাস্থ্য, নিরাপদ আবাস ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনাও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বন বিভাগের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫টিতে, যা ২০১৪ সালের ১০৬টি থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কড়া পাহারা, চোরা শিকার রোধ এবং অভয়াঞ্চল বাড়ানোর সুফল পাওয়ায় বনের ভেতরে বাঘের অবাধ বিচরণ ও প্রজনন আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে বলা হয় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা প্রাচীর। আর এই বনের রাজকীয় পরিচয় ও প্রধান প্রহরী আমাদের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার। জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবসৃষ্ট নানা হুমকির কারণে একসময় আশঙ্কাজনক হারে কমছিল সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা। তবে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগের সুফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুসংবাদ মিলেছে। গত সাত বছরে দেশে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে ১১টি।
বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাংলাদেশকে ঢালের মতো রক্ষা করে আসছে সুন্দরবন। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এবং বিভিন্ন মানবসৃষ্ট কারণে একসময় আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করেছিল বাঘের সংখ্যা। বাঘের সংখ্যা হ্রাসে নড়েচড়ে বসে বন বিভাগ। গ্রহণ করা হয় বাঘের নিরাপত্তা ও বংশবৃদ্ধির বিশেষ পরিকল্পনা। যার সুফলে সম্প্রতি পরিচালিত দুটি পৃথক জরিপে সুন্দরবনে বাঘ বৃদ্ধির ইতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে।
তবে গবেষকেরা বলছেন, বাঘের সংখ্যা বাড়লেও পুরোপুরি দূর হয়নি প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট হুমকি। বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল, খাদ্যের পর্যাপ্ততা এবং নির্বিঘœ প্রজনন নিশ্চিত করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, ‘পশুদের আবাসস্থলে যদি মানুষের অবাধ চলাচল থাকে, তবে তাদের প্রজননেও বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।’
‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’ নামের সংগঠনের আহ্বায়ক নূর আলম শেখ বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়াতে হলে বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল, পর্যাপ্ত খাবার এবং নির্বিঘ্ন প্রজনন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’
জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বাঘ সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে সুন্দরবনে এখন বাঘের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও, বাগেরহাট) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার ফলেই সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে বাঘ সুন্দরবনে নিরাপদ রয়েছে।’
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাঘ ও মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে এবং লোকালয়ে বাঘের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বনের সীমান্ত সংলগ্ন ৭৪ কিলোমিটার এলাকায় তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ পরিবেশবান্ধব সুতলির বেড়া, যাতে বাঘ কোনোভাবেই লোকালয়ে প্রবেশ করতে না পারে।’
নয়নাবিরাম সুন্দরবনে এখন আগের তুলনায় বাঘের দেখা মিলছে বেশি। তবে জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের স্থায়ী নিরাপত্তা এবং সংখ্যা বৃদ্ধির এই ধারা বজায় রাখতে বন বিভাগের পাশাপাশি স্থানী
