বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ বিশ্ব ইরানকে ঘিরে দীর্ঘদিনের থাকা মার্কিন রণতরী : হাজারো নাবিকের জীবন নিয়ে উদ্বেগ

ইরানকে ঘিরে দীর্ঘদিনের থাকা মার্কিন রণতরী : হাজারো নাবিকের জীবন নিয়ে উদ্বেগ

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের মোতায়েনে থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে থাকা হাজারো নাবিকের জীবনযাপন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৫০ দিনের বেশি সময় ধরে মোতায়েন থাকা এই জাহাজে খাদ্যসংকট, পানি ও প্লাম্বিং সমস্যা, ডাক সরবরাহে ব্যাঘাত এবং মানসিক চাপের অভিযোগ উঠেছে।

মার্কিন সামরিকবিষয়ক কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ এই মোতায়েনের কারণে নাবিকদের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়ছে। এমনকি কিছু নাবিক জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে এক নাবিক সাগরে পড়ে গেলে হেলিকপ্টারে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা এখনো তদন্তাধীন।

প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ থাকা এই রণতরীর পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি দিয়েছেন মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। তিনি মৌলিক সরবরাহের সংকট, দূষিত পানি, প্লাম্বিং ত্রুটি, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং ডাক ব্যবস্থার সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।

আরেক সিনেটর রুবেন গ্যালেগো কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলকে জাহাজ পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নাবিকদের স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বন্দরে ভিড়তে না পারা, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, অতিরিক্ত শব্দ ও কম্পন এবং সতেজ খাবারের ঘাটতি তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে।

তবে মার্কিন নৌবাহিনী এসব অভিযোগের বড় অংশ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, যুদ্ধকালীন তৎপরতার কারণে সরবরাহে কিছু সমস্যা হলেও খাদ্য, স্বাস্থ্যসামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে ভুলভাবে উপস্থাপিত বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, প্রতিটি জাহাজ ও নাবিককে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সরকার কাজ করছে।

এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিবর্তে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মোতায়েন নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কতটা চাপ তৈরি করছে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের প্রস্তুতির পাশাপাশি সেনাদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা