বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ মতামত ছবির ফ্রেমে জীবন, ইতিহাস ও সময়, বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস আজ

ছবির ফ্রেমে জীবন, ইতিহাস ও সময়, বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস আজ

১৯ আগস্ট—বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস।একটি ছবি কখনো শুধু একটি ছবি নয়। একটি ফ্রেমের ভেতর লুকিয়ে থাকে সময়, ইতিহাস, মানুষের হাসি-কান্না, স্বপ্ন, সংগ্রাম, আনন্দ-বেদনা এবং সমাজের বাস্তব চিত্র। তাই ফটোগ্রাফি শুধু সৌন্দর্য ধারণের শিল্প নয়; এটি সময়কে ধরে রাখার এক অনন্য দলিল।

ক্যামেরার ক্লিকের সঙ্গে একটি মুহূর্ত স্থির হয়ে যায়। কিন্তু সেই মুহূর্তের গল্প কখনো স্থির থাকে না। বছরের পর বছর পরেও একটি ছবি মানুষকে ফিরিয়ে নিতে পারে কোনো বিশেষ দিন, কোনো ঘটনা কিংবা হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির কাছে।

বিশ্বজুড়ে ফটোগ্রাফাররা প্রতিদিন অসংখ্য দৃশ্য ধারণ করেন। কোথাও উৎসবের আনন্দ, কোথাও মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম, কোথাও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, আবার কোথাও অন্যায়-অবিচারের নির্মম বাস্তবতা। একজন ফটোগ্রাফারের চোখ তাই অনেক সময় সমাজের আয়নার মতো কাজ করে।

বিশেষ করে ফটোসাংবাদিকতা সংবাদজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন ফটোসাংবাদিক শুধু ছবি তোলেন না—তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ইতিহাসের একটি মুহূর্তকে প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করেন। একটি শক্তিশালী ছবি অনেক সময় শত শব্দের প্রতিবেদনের চেয়েও বেশি কথা বলে।
রাজনৈতিক আন্দোলন, দুর্যোগ, যুদ্ধ, দুর্ঘটনা, মানবিক বিপর্যয় কিংবা সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবন—সবকিছুর বাস্তবতা মানুষের সামনে তুলে ধরতে ফটোসাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাদের ক্যামেরার লেন্সের মধ্য দিয়ে আমরা এমন অনেক সত্য দেখতে পাই, যা হয়তো সরাসরি আমাদের চোখে পড়ত না।

বাংলাদেশের ফটোগ্রাফির ইতিহাসও সমৃদ্ধ। মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে আছেন এ দেশের আলোকচিত্রী ও ফটোসাংবাদিকরা। তাঁদের ধারণ করা অসংখ্য ছবি আজ আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ।

প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে ফটোগ্রাফিও বদলে গেছে। একসময় ছবি তুলতে প্রয়োজন হতো ফিল্ম, ডার্করুম ও দীর্ঘ অপেক্ষার। এখন স্মার্টফোনের ক্যামেরাতেই মুহূর্তের ছবি ধারণ করে মুহূর্তের মধ্যে তা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ফটোগ্রাফির জগতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, একটি অসাধারণ ছবির পেছনে থাকা দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভূতি, সময়জ্ঞান ও মানবিকতা এখনো একজন আলোকচিত্রীর সবচেয়ে বড় শক্তি।

একজন ভালো ফটোগ্রাফার শুধু ক্যামেরায় দেখেন না—তিনি মানুষের চোখ দিয়ে দেখেন, হৃদয় দিয়ে অনুভব করেন। কখন ক্লিক করতে হবে, কোন মুহূর্তটি ইতিহাস হয়ে উঠতে পারে, কোন দৃশ্যের মধ্যে লুকিয়ে আছে একটি বড় গল্প—সেটিই একজন আলোকচিত্রীর প্রকৃত দক্ষতা।
বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে তাই শ্রদ্ধা জানাই সেই সব আলোকচিত্রী ও ফটোসাংবাদিককে, যারা নিজের নিরাপত্তা, আরাম কিংবা বিশ্রামের কথা না ভেবে ছুটে যান ঘটনাস্থলে। তাঁদের ক্যামেরার প্রতিটি ক্লিক আমাদের সময়কে সংরক্ষণ করে, ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অতীতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

একটি ছবি হয়তো এক সেকেন্ডের—কিন্তু তার গল্প হতে পারে শত বছরের।বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে সকল আলোকচিত্রী, ফটোসাংবাদিক ও ফটোগ্রাফিপ্রেমী মানুষের প্রতি রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা। শুভ বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস।ক্যামেরার প্রতিটি ক্লিকে বেঁচে থাকুক
মানুষ, স্মৃতি, সত্য ও ইতিহাস।

মো.ইলিয়াছ মাহমুদ
সিনিয়র স্টাফ ফটো সাংবাদিক এবং রিপোর্টার
দৈনিক জনতা

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা