শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ আশুলিয়ায় শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের অভিযোগ : গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যা

আশুলিয়ায় শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের অভিযোগ : গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যা

আশুলিয়া প্রতিনিধি : ঢাকার আশুলিয়ায় শ্বশুরবাড়ির শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সাহেরা আক্তার কাজল (২০) নামে এক গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন এবং বিষপানের পর উন্নত চিকিৎসায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে নিহতের স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্থানীয় এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নিহতের বাবা।

নিহত সাহেরা আক্তার কাজল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার নাশিংগল গ্রামের মো. কবিরের মেয়ে। পরিবারের অমতে আশুলিয়ার কুটুরিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. অনিক মিয়া (১৯)-এর সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও আসবাবপত্রের দাবিতে স্বামী অনিক মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় কাজলের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্যাতনের একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়িতে বিষপান করেন কাজল। পরে বিষয়টি জানতে পেরে স্বজনরা তাকে আশুলিয়ার কুটুরিয়া বাজারের ‘যোবায়ের ফার্মেসী’-এর মালিক ডা. মো. জয়নাল আবেদীনের কাছে নিয়ে যান।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, কাজলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয়। পরে স্বজনরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এরপর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. কবির বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে নিহতের স্বামী মো. অনিক মিয়া (১৯), শাশুড়ি অঞ্জনা বেগম (৩৫), শ্বশুর মো. উজ্জ্বল মিয়া (৪৫) এবং স্থানীয় চিকিৎসক ডা. মো. জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ও আইনগত অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম (পিপিএম-সেবা) বলেন, “লিখিত অভিযোগটি পেয়েছি। লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা