মাসুদ রানা, গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি : মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় মুজিববর্ষে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধিকাংশ ঘর খালি পড়ে আছে। দেখার যেন কেউ নেই। পরিত্যক্ত এসব ঘর এখন যে যার সুবিধামতো ব্যবহার করছে। ঘরের আঙিনা থেকে শুরু করে বসত ঘরের ভেতর লতা-পাতায় ঘিরে গহীন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। দেখলে মনে হয় জঙ্গলের ভেতর পুরনো কোনো পরিত্যক্ত বাসস্থান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর এসব পরিত্যক্ত ঘরে অনৈতিক কাজ ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়।
জানা যায়, গৃহহীনদের আশ্রয়ের লক্ষ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার সারাদেশে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ হাতে নেয়। ২০২১ সালে মুজিববর্ষে একযোগে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গাংনী উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামের সরকারি খাস জমিতে মোট ২০৮টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি ঘর ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়।
এ বিষয়ে গাংনী উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলিমুল রেজা মুঠোফোনে ঘরের মোট সংখ্যা জানালেও মোট খরচ কত তা জানাতে পারেননি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামে ছেউটিয়া নদীর কিনারে নির্মিত ৮টি ঘরে আজও কেউ বসবাস শুরু করেননি। ঘরের ভেতরে কৃষকদের পাট রাখা আছে। গাঁথুনি বেঁকে গেছে, যা বসবাসের একেবারে অযোগ্য।
এছাড়া রাইপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের পাঠা পাড়ায় দুটি ঘর জনবসতিহীন স্থানে নির্মাণ করায় সেখানেও কেউ থাকে না। সাহারবাটি ইউনিয়নের ভাটপাড়া ডিসি ইকোপার্কের পাশে কাজলা নদীর কিনারে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪টি ঘর রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ সেখানে নিয়মিত অনৈতিক কাজ ও মাদক কেনা-বেচা হয়। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না।
কুচইখালি গ্রামের কৃষক এনামুল হক বলেন, “এসব ঘরে কীভাবে থাকবে মানুষ। নিম্নমানের ইট-খোয়া দিয়ে কোনো রকমে খাড়া করে রেখেছে। মানুষ এখানে বাস করতে এসে মরবে?”
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘর নির্মাণের সময় দলীয় পরিচয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ঘর হস্তান্তরের আগেই শেখ হাসিনা সরকারের পতন হওয়ায় যাদের পাওয়ার কথা ছিল তারাও পায়নি।
উপজেলার প্রায় প্রতিটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্থানেই একই চিত্র। ফলে অপরাধীদের জন্য এটি অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, “ঘর খালি থাকার কোনো কারণ তো দেখি না। আমার সময়ে এটা বাস্তবায়ন হয়নি তাই সঠিক কারণ বলতে পারব না। তবে কাগজপত্র দেখে তদন্ত করে বলা যাবে।”
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ নাবিদ হাসান জানান, “আমি এখানে অতিরিক্ত ও নতুন দায়িত্বে আছি তাই এ বিষয়ে বিশদ না জেনে কিছু বলতে পারছি না।”
জেলা প্রশাসক শিল্পী রাণী রায় বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের যে ঘরগুলো খালি রয়েছে সেগুলো কমিটি করে যারা পাওয়ার যোগ্য তাদেরকে দেওয়া হবে। আর অপরাধমূলক যে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে তার জন্য জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে।”
জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন জানান, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের নিয়ম-অনিয়ম সব আমরা যাচাই করব আর যারা এর ন্যায্য দাবিদার তাদেরকে বুঝিয়ে দেব। আশ্রয়ণ প্রকল্প বলে নয়, অপরাধ যেখানেই হবে সেখানেই তা দমন করা হবে।”
