ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের গাড়াজান গ্রামের আমিরুল ইসলাম সোহাগের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পড়াশুনার জন্য কোরিয়ায় যেতে লেট’স কোর্স না করেও দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে পারবে এমন প্রলোভন দেখিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ভূয়া ইউনিভারসিটির অ্যাকসেপ্টেন্স লেটার দিয়ে রংপুরের এক জনের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই প্রতারক। ভুক্তভোগী বাবা পরিমল চন্দ্র বর্মন মামলার এজাহারে বলেন, আমার ছেলেকে লেখাপড়ার জন্য কোরিয়ার ইউনিভার্সিটিরতে ভর্তি করিয়ে দিবে মর্মে ১৫ লাখ টাকা নেয়। এতেও প্রতারকের চাহিদা মেটেনি। ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে আরো ২ লাখ টাকা দাবী করে সে। এক পর্যায়ে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে চম্পট দেয় আমিরুল ইসলাম। তাঁর মুঠো ফোন বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে আবার কখনও কখনও ফোন খোলা থাকলেও ভুক্তভোগীর ফোন রিসিপ্ট না করে আমিরুল ইসলাম উল্টো হুমকি-ধামকি দেন। টাকা হাতানোর পর থেকেই তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন এমন দাবি করে শ্রী পরিমল চন্দ্র ধর্মন নামে ঐ ব্যক্তি জেলা রংপুরের বিজ্ঞ কগনিজেন্স আদালতে গিয়ে আমিরুল ইসলাম সোহাগ বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।
এর আগেও অতিরিক্ত মহানগর জজ আদালত ০২, মহানগর সিআর নং-৩৩৪/১৪, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার সিআর-৬১৭/২৩ আমিরুল ইসলাম সোহাগের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
ঢাকার খিলগাঁও উপজেলার তাজ নাহারের অভিযোগ, ‘প্রতারক আমিরুল ইসলাম সোহাগ প্রতারণার ফাঁদ পেতে তার ছেলেকে উচ্চ বেতনে চাকুরী পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিন লাখ ও একভরি ওজনের গলার চেইন হাতিয়ে নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী নারী বলেন, প্রেমের সম্পর্কের অভিনয়ের মাধ্যমে বিত্তশালী নারীদের টার্গেট করে অর্থ হাতিয়ে নেয় প্রতারক আমিরুল ইসলাম সোহাগ। আমাকে গোপনে বিয়ের পর তার বাড়িতে নিয়ে গেলে সোহাগের মা আয়েশা আক্তার লিপি তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলেও দাবি করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গাড়াজান গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার কারণে সোহাগ এলাকায় আলোচিত ছিলেন এবং ঈদের পর আমিরুল ইসলাম সোহাগ একটি স্বর্ণের চেইন এনে তার মাকে দেন। পরে সোহাগের মা পাশের বাড়ির এক নারীর কাছে দাবি করেন, তার ছেলে এক লাখ টাকা দিয়ে চেইনটি কিনেছেন। তবে পরবর্তীতে ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় প্রতারণার অভিযোগে আটক করলে তাকে ছাড়িয়ে আনতে তার পরিবার ওই স্বর্ণের চেইন ও গরু বিক্রি করে ঢাকায় টাকা পাঠায় বলে দাবি করা হয়।
টাঙ্গাইলের এক তরুণীর সঙ্গে সোহাগের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ওই তরুণীর ছোট ভাইকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন ব্যক্তি সোহাগকে খুঁজতে এলাকায় এসেছিলেন বলেও দাবি করেন তারা।
এছাড়া সংসদ ভবনে এক বিধবা নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে ব্ল্যাকমেইল করে প্রায় ৫৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে সোহাগের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে আমিরুল ইসলাম সোহাগের খোঁজে ওই নারী এলাকায় এসেছেন বলেও জানা গেছে।
