মো.মোক্তার হোসেন, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন জেলার নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেছেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় ডিলার ও নেপথ্যের গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা’কে মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন পুলিশ সুপার মো.হাবিবুর রহমান।
নবাগত পুলিশ সুপার বলেন, শুধু মাদকসেবী কিংবা রাস্তার পাশের খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই মাদক ব্যবসার মূল উৎস বন্ধ হবে না। তাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সব স্তরের ডিলার, পরিবহনকারী, অর্থের জোগানদাতা ও নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষকদের তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জকে মাদকমুক্ত ঘোষণা না করা পর্যন্ত আমাদের অভিযান থেমে থাকবে না। কারও রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব বিবেচনা করা হবে না। অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদক সমাজে সকল অপরাধের মূল। মাদক সেবক ও ব্যবসায়ীরা নানা অপকর্মের কেন্দ্র, তাই মাদকে কোন ছাড় নয়।
এসপি জানান, জেলার প্রতিটি থানার মাদকপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে দৃশ্যমান পুলিশি টহল, চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শিল্পাঞ্চল, বাসস্ট্যান্ড, নদীপথ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে মাদক ব্যবসার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদক নির্মূলে জনগণের সহযোগিতা কামনা করে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আপনারা তথ্য দিন, পরিচয় গোপন রাখা হবে। আমরা ব্যবস্থা নেব।
এ সময় থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে জেলার সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসপি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি শত শত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের এ কঠোর অবস্থানে সন্তো।
