মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ তাওহীদের জামিন নামঞ্জুর, জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

জ্বীনের বাদশা সেজে প্রতারণা:

তাওহীদের জামিন নামঞ্জুর, জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

মো. ইনজামামুল হক (নাঈম) শায়েস্তাগঞ্জ : হবিগঞ্জে জ্বীনের বাদশা সেজে ‘জ্বীনের হাজিরা’র মাধ্যমে অলৌকিক শক্তি প্রদর্শন এবং ১ হাজার ভরি স্বর্ণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা, জমি ও ব্যাংকের চেক নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার চৌধুরী তাওহীদ বিন আজাদ ওরফে তাওহীদ/ইমনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমল আদালতের বিচারক আব্দুল মন্নান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ইন্সপেক্টর মফিজুল ইসলাম তাওহীদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর না করে জেলগেটে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে হবিগঞ্জ জেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এলাকা থেকে তাওহীদকে গ্রেফতার করা হয়। এর একদিন আগে ২১ সেপ্টেম্বর শায়েস্তাগঞ্জের উবাহাটা এলাকার মো. আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে পারিবারিক সমস্যার সময় স্ত্রীকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাওহীদ নিজেকে আধ্যাত্মিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে দাবি করেন। পরে কথিত ‘জ্বীনের হাজিরা’র মাধ্যমে প্রথমে ৫০০ এবং পরবর্তীতে ১ হাজার ভরি স্বর্ণ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, কথিত জ্বীনের নির্দেশের কথা বলে জমি, নগদ টাকা ও অন্যান্য সম্পদসহ প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নোটারির মাধ্যমে ৩৫ লাখ টাকার একটি চেক এবং ১৪টি ব্ল্যাংক চেক তাওহীদের কাছে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

তাওহীদ গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে একই কায়দায় আরও কয়েকজনের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, জ্বীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকেও অর্থ ও সম্পদ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার বাদী আরও অভিযোগ করেছেন, কয়েকজন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়ে তাওহীদ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এ অভিযোগেরও সত্যতা তদন্তাধীন রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা