মাসুদ রানা, মেহেরপুর প্রতিনিধি : মেহেরপুরের গাংনীতে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুটি পাখি ভ্যান ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোরে উপজেলার বামন্দী-দেবীপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের শিকার তিনজনের বাড়ি কাজীপুর ইউনিয়নের নওদাপাড়া ও দেবীপুর গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, ফজরের আজানের পরপরই ব্যস্ত সড়কে এ ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় তারা আতঙ্কিত। ছিনতাইকারীরা সড়কে বাঁশ ফেলে ভ্যানের গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে। পরে তাদের মাঠের মধ্যে নিয়ে গিয়ে মারধর ও বেঁধে রেখে দুটি পাখি ভ্যান ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী সোহান আলী জানান, নওদাপাড়া থেকে ষোলটাকার উদ্দেশ্যে মাছ ধরতে যাচ্ছিলেন। দেবীপুর পার হয়ে বামন্দীর সড়কে ঢোকার সময় ছিনতাইকারীরা বাঁশ ফেলে তাদের ভ্যানের গতিরোধ করে। এ সময় তাদের হাতে ধারালো হাঁসুয়া ও লাঠি ছিল। পরে তাদের মাঠের মধ্যে নিয়ে গিয়ে বেঁধে রেখে ভ্যান নিয়ে যায়। তার কাছে থাকা নগদ ৫ হাজার ৫০০ টাকাও ছিনিয়ে নেয় তারা।
সোহান আলী আরও জানান, ছিনতাইকারীদের সবার মুখ বাঁধা ছিল। তাদের মাছ ধরার জাল ও হাঁড়ি অবশ্য রেখে যায় ছিনতাইকারীরা। ফজরের আজানের পরপরই এমন ঘটনা ঘটবে, তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি।
অপর ভুক্তভোগী দেবীপুর গ্রামের মো. রুহুল আমিন বলেন, দেবীপুর পার হয়ে একটি কালভার্টের কাছে পৌঁছালে দুইজন ছিনতাইকারী ভ্যানে উঠে পড়ে। সামনে আরও দুইজন বাঁশ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি ভ্যান ঘোরানোর চেষ্টা করলে ছিনতাইকারীরা লাঠি দিয়ে তার হাতে আঘাত করে। পরে তাকে মাঠের মধ্যে নিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে এবং তার কাছে থাকা ৭০০ টাকা নিয়ে যায়। তার ডাকাডাকি শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
রুহুল আমিনের ধারণা, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল জড়িত ছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম বলেন, শুক্রবার ফজরের আজানের পরপরই বামন্দী-দেবীপুর সড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় ছিনতাইকারীরা দুটি পাখি ভ্যান ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।
বামন্দী ক্যাম্পের এসআই মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও আটকের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে, স্থানীয়দের দাবি, বামন্দী-দেবীপুর সড়কে বিশেষ করে রাত ও ভোরের সময় পুলিশের টহল আরও জোরদার করা হলে এ ধরনের অপরাধ কমানো সম্ভব হবে।
