ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কাশবনের ভিতরে কথিত চায়ের আড্ডার দোকানের আড়ালে নাচ-গানসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তরুণীকে ভাড়ায় এনে আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ স্হানীয় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোখলেছুর রহমান মিঠুকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ০১ নং ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় কাশবনের ভিতরে চায়ের আড্ডার দোকানের আড়ালে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ তিলাই এলাকার খোচাবাড়ি গ্রামের আজাহার আলীর পুত্র ফুল মিয়াসহ ওই এলাকার কিছু যুবক গত ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখে উঠতি বয়সী ৩ জন তরুণীকে নাচ গান সহ অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য ভাড়ায় নিয়ে আসে। যার মধ্যে ২ তরুণী চলে যায়। কিন্তূ বরষা (ছদ্ম নাম) আরশি আক্তার নামের তরুণী থেকে যায়। ওই তরুণীর বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি থানার হাজী পাড়া গ্রামে। সে ওই এলাকার হাশেম উদ্দিনের কন্যা।
পরে গত ২৯ সেপ্টেম্বর উপজেলার সদর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের আব্দুল গফুরের পুত্র মোখলেছুর রহমান মিঠু, কাজিয়ার মোড় এলাকার মৃত নুর জামাল কশাইয়ের পুত্র নাইনুল ইসলাম মৃত গফুরের পুত্র লিটন মিয়া কুড়ার পাড় এলাকার মৃত ইউনুছ আলীর পুত্র আল আল আমিন ও ফুল মিয়া নামের ৫ যুবক সামাদের ঘাটের কাশবনের ভিতরে ওই তরুনীকে পালাক্রমে ধর্যন করে এবং মেয়েটির কাছে থাকা ৫ হাজার ৬০০ টাকা ও এন্ড্রয়েড ফোন ছিনিয়ে নেয়।
গতকাল ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাতে ওই মেয়েটি নিজ বাড়িতে যাবার মতো টাকা পয়সা না থাকায় ওই যুবকদের খোঁজে নলেয়া গ্রামের রশিদ মোড়ে গিয়ে তাদের কাছে টাকা চাইলে তারা অস্বীকৃতি জানায়। তখন পাশের লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে রাত সোয়া নয়টার সময় ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে। এবং ঘটনার সাথে জড়িত মোখলেছুর রহমানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার সামাদের ঘাট এলাকায় কাশবনের ভিতরে কথিত চায়ের আড্ডায় অশ্লীল নাচ গান, জুয়া ও অর্থনৈতিক কাজের অভিযোগে ওই চায়ের আড্ডা গুড়িয়ে দেয় উপজেলা প্রাশাসন ও থানা পুলিশের যৌথ দল।
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসীর মামুন মুন বলেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
