রবিবার | অক্টোবর ৪, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ প্রতিমায় ফুটছে উৎসবের রং, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে কুমাররা

প্রতিমায় ফুটছে উৎসবের রং, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে কুমাররা

শালিখা মাগুরা থেকে ইয়াছিন মোল্যা : শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। বাতাসে উৎসবের আগমনী বার্তা। আর সেই বার্তাকে পূর্ণতা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কুমাররা। শারদীয় দুর্গাপূজা যতই এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে তাঁদের কর্মচাঞ্চল্য। দিনের আলো ফুরিয়ে গেলে পূজামণ্ডপগুলোতে থেমে নেই প্রতিমা তৈরির কাজ।

মাগুরার শালিখা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, বাঁশ ও খড় দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্রতিমার প্রাথমিক কাঠামো। কোথাও চলছে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ। আবার কোথাও শিল্পীর নিপুণ আঙুলের স্পর্শে ধীরে ধীরে ফুটে উঠতে থাকে দেবী দুর্গার মুখাবয়ব। এসকল কাঁচা মাটির নির্জীব কাঠামো একসময় রূপ নেয় জীবন্ত শিল্পকর্মে।

প্রতিমা তৈরির প্রতিটি ধাপেই রয়েছে কুমারদের শ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার ছাপ। প্রথমে বাঁশ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর প্রস্তুত মাটি দিয়ে ধাপে ধাপে শরীরের অবয়ব গড়ে তোলা হয়। মাটি শুকিয়ে গেলে চলে সূক্ষ্ম কারুকাজ ও রঙের কাজ। সবশেষে শাড়ি অলংকার, চুল ও নানা সাজসজ্জায় পূর্ণতা পায় প্রতিমার সৌন্দর্য।

উপজেলার চুকিনগর বারাঙ্গা খাল পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে আসা কুমার নিরঞ্জন সরকারের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, পূজার সময় ঘনিয়ে এলে কাজের চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে হয়। তাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে তাঁদের ব্যস্ততা। অনেক সময় পরিবারের সদস্যরাও কাজে হাত লাগান।

তবে এই ব্যস্ততার মাঝেও ভাস্করদের চোখে-মুখে থাকে এক ধরনের তৃপ্তি। তারা জানান, শুধু জীবিকা নির্বাহের জন্যই নয়, দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে রয়েছে ভক্তি, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। তাঁদের হাতের তৈরি প্রতিমা যখন পূজামণ্ডপে স্থান পায়, তখন মাটির সঙ্গে মিশে থাকা তাদের শ্রম ও ভালোবাসা যেন নতুন অর্থ খুঁজে পায়।

দুর্গাপূজার উৎসব শুধু মণ্ডপের আলোকসজ্জা, ঢাকের বাদ্য কিংবা আনন্দ-উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে অসংখ্য মানুষের নিরলস শ্রম। তাঁদের মধ্যে ভাস্করদের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মাটি, খড় আর বাঁশের সঙ্গে শিল্পীর কল্পনা মিশে তৈরি হয় যে প্রতিমা, সেটি হয়ে ওঠে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

শালিখা উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক গোবিন্দ বিশ্বাস জানান, শালিখায় উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শারদীয়া দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবছর উপজেলায় ১৬১টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, উৎসবকে ঘিরে অধিকাংশ প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

শালিখা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. আশিকুর রহমান জানান, উপজেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। উৎসব চলাকালে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর পুলিশের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা