রবিবার | অক্টোবর ৪, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ বড় ভাই কর্তৃক ছোট ভাইয়ের সম্পত্তি প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাথের অভিযোগ

বড় ভাই কর্তৃক ছোট ভাইয়ের সম্পত্তি প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাথের অভিযোগ

নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর থেকে : শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলার নশাশন ইউনিয়নের নমকান্দি এলাকায় জাল জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে মানসিক ভারসাম্যহীন আপন ছোট ভাই মিজানুর রহমান পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ওয়ারিশ সম্পত্তি আত্মসাৎ করলেন আপন সহোদর বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য এমদাদ হোসেন ।

আজ ৪ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১১ টার দিকে সরজমিন ঘুরে স্থানীয় সূত্রে দলিল পত্রাদি পর্যালোচনা করিয়া দেখা গেছে বড় ভাই এমদাদ হোসেনের বিরুদ্ধে সম্পত্তি আত্মসাৎ এর আনিতে অভিযোগটি নিশ্চিত করা গেছে।

মানসিক ভারসাম্যহীন মিজানুর রহমানের নিজ নামে বিআরএস রেকর্ডিও সম্পত্তি আপন বড় ভাইয়ের আত্মসাত করার বিষয়টি এলাকায় প্রকাশিত হলে ওই অত্র এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বারবার সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। মানসিক ভারসাম্যহীন মিজানুর রহমান তার ব্যাহত হওয়া সম্পত্তি উদ্ধার করার জন্য বাধ্য হয়ে আদালতের কাছে শরণাপন্ন হন। কা

গজপত্র ও দলিল বাতিলের মামলার সূত্র থেকে জানা গেছে, ২৩ নং নশাসন মৌজায় সার্ভে মাঠ জরিপের সময় বি আর এস ৬০৬ নং খতিয়ানে ৩৫০৬ নং দাগে বাড়ি ৫৯ শতাংশ জমি এবং ৩৫০৮ নং দাগে পুকুর ২০ শতাংশ মোট ৭৯ শতাংশ জমি সমাহারে এমদাদ হোসেন ও মানসিক ভারসাম্যহীন মিজানুর রহমান দুই ভাইয়ের নামে বি আর এস রেকর্ড হয়। অংশ অনুযায়ী বিআরএস ৬০৬ নং খতিয়ানে দুই দাগে মিজানুর রহমান ৩৯. ৫ শতাংশ জমির মালিক এবং এমদাদ হোসেন ৩৯.৫ শতাংশ জমির মালিক।

বি আর এস ৩৫৫ নং খতিয়ানের ১১০৫ নং দাগে বাড়ি ৪০ শতাংশ, ১১০৬ নং দাগের নাল ৩৮ শতাংশ এবং ১১০৭ নং দাগে নাল ১১ শতাংশ জমি তিন দাগে মোট জমি ৮৯ শতাংশ জমি অন্য অন্য হিসাসহ মোট ৯ জনের নামে অংশে মোতাবেক বিআরএস রেকর্ডের অন্তর্ভুক্ত হয়।

বিআরএস ৩৫৫ নং খতিয়ানে মোট তিন দাগে ৮৯শতাংশ জমি হইতে অংশে মোতাবেক এমদাদ হোসেনের নামে ২০.৭৩ শতাংশ এবং মিজানুর রহমানের নামে ২০.৬৪ শতাংশ জমি বি আর এস রেকর্ড এর অন্তর্ভুক্ত হয়।

বিআরএস রেকর্ড অনুযায়ী দুই খতিয়ানে মিজানুর রহমান মোট সম্পত্তির মালিক ৬০.১৪ শতাংশ জমি।অবসরপ্রাপ্ত সেনার সদস্য এমদাদ হোসেন জাল জালিয়াতি প্রতারণার মাধ্যমে ছোট ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন মিজানুর রহমানের নিজ নামের বিআরএস ৬০৬ নং খতিয়ানের ৩৯.৫ শতাংশ জমি ১৯৯৩ সালে আগস্ট মাসে দলিল লেখক ও নড়িয়া সাব রেজিস্টার অফিসের কর্মকর্তার যোগ সাজসে এওয়াজ বদল বা বিনিময়পত্র দলিলের মাধ্যমে তার নিজ নামে লিখে নেন।এবং এমদাদ মুন্সী তার নিজ নামীয় বিআরএস ৩৫৫ নং খতিয়ান মোট তিন দাগের ২০.৭৩শতাংশ জমি ১৯৯৩ সালে এওয়াজ বদল বা বিনিময়পত্র দলিলের মাধ্যমে ভারসাম্যহীন ছোট ভাই মিজানুর রহমান মুন্সি কে লিখে দেন যাহার দলিল নং ২১১০।

বি আর এস ৩৫৫ নং খতিয়ানে এমদাদ হোসেনের কোন সম্পত্তি না থাকা সত্ত্বেও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এওয়াজ বদল বা বিনিময়পত্র দলিল গোপন করে ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে নড়িয়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসে বিআরএস ৩৫৫ নং খতিয়ানের তিন দাগে ২০.৭৩ শতাংশ হইতে খোরশেদ আলম মুন্সির নিকট ৪ শতাংশ এবং মোঃ জনু মুন্সির নিকট ১০ শতাংশ জমি সাপ কবলা দলিল মূলে বিক্রি করেন।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে বিআরএস ৩৫৫ নং খতিয়ানে তিন দাগে ২০.৬৪ শতাংশ জমি মানসিক ভারসাম্যহীন মিজানুর রহমানের নামে বিআরএস রেকর্ড কৃত সম্পত্তি বিক্রি করিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন বড় ভাই এমদাদ হোসেন ।

জাল জালিয়াতি প্রতারণার মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য এমদাদ হোসেনের ১৯৯৩ সালের এওয়াজ বদল বা বিনিময়পত্র দলিলের কথা ৩০ বছর পর জানতে পেরে মিজানুর রহমান আদালতে ২০২৪ সালে ২১১০ নং দলিল বাতিলের মামলা করেন। বর্তমানে মিজানুর রহমান মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তার পক্ষে তাহার স্ত্রী হালিমা বেগম দলিল বাতিলের মামলাটি পরিচালনা করছেন।

মানসিক ভারসামহীন মিজানুর রহমান এর স্ত্রী হালিমা বেগ গণমাধ্যমকে বলেন, আমার স্বামীর বড় ভাই এমদাদ হোসেন আমার স্বামীর মানসিক ভারসাম্যহীন সরলতার সুযোগ নিয়ে ৩০ বছর আগে আমার স্বামীর কাছ থেকে এওয়াজ বদল বা বিনিময় পত্র দলিলের মাধ্যমে আমাগো অংশ ভিটাবাড়ি পুকুর পুরো সম্পত্তি লিখে নেন। আমার স্বামীরে এবং আমাগো মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এমদাদ হোসেন মুন্সি । আমরা এখন অন্যের বাড়িতে থাকি।

মানসিক ভারসাম্যহীন আমার স্বামী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমার স্বামীর সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য আদালতে দলিল বাতলের মামলা চলমান রয়েছে।
প্রতারক এমদাদ হোসেনের কঠিন শাস্তি চাই।

মানসিক ভারসাম্যহীন মিজানুর রহমান মুন্সির মেয়ে নাজমুন নাহার গণমাধ্যমকে বলেন, ছোট কাল থেকে জেনে এসেছি আমাদের কোন সম্পত্তি নেই।আমরা ভাই বোন নিয়ে অন্যের বাড়িতে থাকি। আমার বড় চাচা এমদাদ মুন্সী বাড়ির পুকুর বালু দিয়ে ভরাট করার সময় আমার বাবা বড় কাকাকে গিয়ে বলে আমার একটা সন্তান আছে আমারে একটু জায়গা দিস আমার সন্তান ঘর উঠিয়ে থাকতে পারে। এ কথা বলার পর মানসিক ভারসামবিহীন আমার বাবারে বাঁশ দিয়ে মারতে মারতে বের করে দেয়। আমরা লোকের মাধ্যমে জানতে পারলাম পুরান বাড়িতে আমার বাবার নামে ১৬ করা জমিন আছে। সেই জমি থেকে দশ করা জমি বিক্রি করে দিয়েছে আমার বড় চাচা এমদাদ হোসেন মুন্সি। এখন আমরা আমাদের সম্পত্তি ফেরত চাই।

এমদাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, এওয়াজ বদল বা বিনিময়পত্র দলিলের কথা আমি কিছুই জানি না। এই দলিলটি কিভাবে হইল এটা আমার বাবা ভালো জানে। আমার বাবা তখন নড়িয়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ছিল।১৯৯৩ সালে তখন আমি সেনাবাহিনীতে চাকরি করি।আমার বাবা আমাকে একদিন নড়িয়া আসতে বলল। আমি নড়িয়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসে আসলাম আমার কাছ থেকে একটি সই নিল এতটুকই জানি এর বেশি কিছু জানিনা। আমার ছোট ভাইয়ের সম্পত্তি বিক্রি করে যে টাকা নিয়েছি সেই টাকা ফেরত দিয়ে দিব।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা