পিরোজপুর থেকে এস এম সিপার : পিরোজপুরের কাউখালীতে একটি বেপরোয়া কুকুরের হামলায় শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কচুয়াকাঠী, কুমিয়ান, বলভদ্রপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কুকুরটি পথচারী ও স্থানীয়দের কামড়ে জখম করে।
আহতদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে আটজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—কচুয়াকাঠী এলাকার আকাশ হালদার (১১), আব্দুল্লাহ (১৩), রাইসা (৭) ও মাহিরা (১২), কুমিয়ান গ্রামের সিরাজুল (৩), উত্তর বাজারের প্রদীপ (১২), বলভদ্রপুরের অপ্রনীল (৮) এবং একই এলাকার হেমায়েত (৬২)। আহতদের কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কচুয়াকাঠী এলাকায় কালো রঙের একটি কুকুরকে অস্বাভাবিকভাবে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি সামনে যাকে পাচ্ছিল, তাকেই কামড়াতে শুরু করে। পরে কুকুরটি কুমিয়ান, বলভদ্রপুরসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কয়েকজন আক্রান্ত হন। একের পর এক মানুষকে কামড়ানোর ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত হেমায়েত বলেন, বাসা থেকে বাজারের উদ্দেশে বের হলে হঠাৎ কুকুরটি এসে তাঁর পায়ে কামড় দেয়। পরে তিনি জানতে পারেন, একই কুকুরের হামলায় এলাকার আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
দাশেরকাঠী গ্রামের বাসিন্দা মাহামুদুল হাসান বলেন, এলাকায় বেওয়ারিশ ও হিংস্র কুকুরের উপদ্রব দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। প্রায়ই শিশুসহ হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু এসব কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে। নতুন করে মানুষকে কামড়ানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।
কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কর্মকার বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা জলাতঙ্কের ঝুঁকি এড়াতে আক্রমণকারী কুকুরটিকে দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
