বুধবার | অক্টোবর ৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ সিংগাইর থানার দারোগা নাজমুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

সিংগাইর থানার দারোগা নাজমুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

রিপন মিয়া, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই( উপ-পরিদর্শক) মীর নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে চার্জার ফ্যান-গাড়িভাড়া কাণ্ডে বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- মামলা তদন্ত ও চার্জশিট দাখিলে পক্ষপাতিত্ব,ব্যক্তিগত কাজে জিনিসপত্র ও নগদ অর্থ গ্রহণ, গাড়ি ভাড়ার বকেয়া টাকা পরিশোধ না করা,উদ্ধারকৃত  মাদকদ্রব্য থেকে জব্দ তালিকায় পরিমাণে কম দেখিয়ে মাদক ব্যবসায়ীকে কোর্টে চালানসহ একাধিক বিষয়। এ ছাড়া আপন ভাই-বোনের বিরোধকে কেন্দ্র করে থানায় দায়ের করা একটি চাঁদাবাজি মামলায় চার্জশিট দাখিলকে ঘিরেও প্রশ্ন ওঠেছে দারোগা নাজমুলের হাসানের ভূমিকা নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মামলার তদন্ত এবং  চার্জশিট প্রক্রিয়ায় তার কর্মকাণ্ড নিয়েও নানা অসঙ্গতি রয়েছে।

এদিকে, সিংগাইর বাসস্ট্যান্ড রেন্ট-এ-কার মালিক ও শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান অভিযোগ করেন, বাসস্ট্যান্ডে একটি বিরোধের ঘটনায় পুলিশের সহায়তা চাইলে এসআই নাজমুল হাসান ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তাকে একটি চার্জার ফ্যান কিনে দিতে বলেন। জাহিদের দাবি, ফ্যানটির দাম বাবদ তাকে ৭ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

জাহিদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “সিংগাইর বাসস্ট্যান্ডে কমিটি নিয়ে বিরোধের সময় একটি পক্ষ আমাকে সরিয়ে সেখানে ঢোকার চেষ্টা করছিল। এ বিষয়ে আমি নাজমুল স্যারের শরণাপন্ন হই। তখন তিনি এ সুযোগে তার বাসায় আইপিএস না থাকায় একটি ফ্যান কিনে দিতে বলেন। পরে আমাকে ফ্যানের মূল্য বাবদ ৭ হাজার টাকা দিতে হয়।”

জাহিদের আরও অভিযোগ, ওসি স্যারের কথা বলে তার কাছে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দাবি করেন এসআই নাজমুল। পরে উপায় না পেয়ে তিনি নগদ ৫ হাজার টাকা দিয়ে রক্ষা পায় । বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় ওই দারোগার হুমকিতে ভুক্তভোগী জাহিদ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত  আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, দক্ষিণ জামশা গ্রামের বাসিন্দা অপু সরকারের অভিযোগ,তার প্রাইভেটকার ৭ হাজার টাকায় ভাড়া করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা থেকে আসামি আনার কাজে ব্যবহার করেন এসআই নাজমুল। তবে গাড়ির চালককে ৪ হাজার টাকা দেওয়ার পর বাকি ৩ হাজার টাকা আর পরিশোধ করেননি তিনি ।

ড্রাইভার অপু সরকার বলেন, “৭ হাজার টাকা চুক্তিতে নাজমুল স্যার আমার গাড়ি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আসামি আনার জন্য পাঠিয়েছিলেন। রাস্তায় খরচ বাবদ আমাকে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। এরপর বেশকিছু দিন ঘুরে আরও এক হাজার টাকা সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম। কিন্তু বাকি টাকা আর দেননি দারোগা নাজমুল হাসান । ইন্সপেক্টর(তদন্ত) স্বপন স্যার বলার পরও বিষয়টির সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিজের পকেট থেকে মহাজনকে টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।”

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, এসআই মীর নাজমুল হাসান পৌর সদরে একটি পরিবারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানিতে সহযোগিতা করছেন। তাদের দাবি,ওই পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে থানায় তিনি ‘স্পেশাল দারোগা’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন।

এসআই মীর নাজমুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি চার্জার ফ্যান ও নগদ অর্থ গ্রহণসহ তার বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করেন।বকেয়া গাড়ি ভাড়ার ব্যাপারে তিনি বলেন,ওই সময় তদন্ত স্যার এসআই মেরাজুল ইসলামকে দিয়ে গাড়ি পাঠিয়েছিলেন। সেখানে ভাড়া দেয়া হয়েছে, হয়তো কিছু কম দিতে পারেন।

সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “জাহিদের কাছ থেকে ফ্যান ও টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি মাসখানেক পর শুনেছি। এছাড়া অপু সরকারের গাড়িভাড়া বকেয়া থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি কথা বলে দেখবেন বলেও ওসি জানান।

এ ব্যাপারে  সিংগাইর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)ফাহিম আসজাদ বলেন, “কেউ সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অভিযোগ করলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা