আশুলিয়া থেকে জাহাঙ্গীর আলম রাজু : আশুলিয়ার পলাশবাড়ী বটতলা এলাকা থেকে অপহৃত দুই বছরের শিশু মীম আক্তারকে চারদিন পর জীবিত উদ্ধার করেছে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা (এসআরবি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত গৃহকর্মী মোছাঃ বেলী বেগমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে এসআরবি-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম রেজাউল হক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন,গত ১২ অক্টোবর রাতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল এলাকায় এসআরবি-৪ এবং এসআরবি-১৪ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরও বলেন মামলার এজাহার ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়,শিশু মীম আক্তারের মা পেশায় একজন পোশাক শ্রমিক। তিনি কর্মস্থলে থাকার সময় মেয়েকে দেখাশোনার জন্য গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে বেলী বেগমকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ১টার দিকে শিশুটিকে গৃহকর্মীর জিম্মায় রেখে তার মা গার্মেন্টসে কাজে যান। রাত ১০টার দিকে কাজ শেষে বাসায় ফিরে তিনি গৃহকর্মী ও সন্তান কাউকেই দেখতে পাননি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান না পেয়ে শিশুটির মা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর পরই এসআরবি-৪ অবিলম্বে ছায়াতদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সাহায্যে দেখতে পায়, আসাম বেলী বেগম অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে গত ১ সেপ্টেম্বর শিশুটির বাসার কাছেই ঘর ভাড়া নেন এবং ৮ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে অপহরণ করে পালিয়ে যান। বাড়িওয়ালা বা স্থানীয়দের কাছে তার সঠিক পরিচয় ছিল না।
তদন্তের একপর্যায়ে বেলী বেগমের একটি পুরোনো ডিভোর্স লেটার নোটিশ থেকে টাঙ্গাইলের একটি সম্ভাব্য ঠিকানা পায় এসআরবি। তবে সেখানে গিয়ে জানা যায়, বেলী বেগম গত ১৫ বছর ধরে ওই এলাকায় থাকেন না।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বেলী বেগমের তৃতীয় স্বামীর অবস্থান টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানাধীন খালপাকুটিয়া দেওলাবড়ি এলাকায় চিহ্নিত করা হয়।এরই ধারাবাহিকতায়,সোমবার রাতে এসআরবি-৪ এবং এসআরবি-১৪ যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘাটাইল থেকে বেলী বেগমকে গ্রেপ্তার করে এবং তার তথ্যমতে শিশু মীমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এসআরবি-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম রেজাউল হক বলেন উদ্ধারকৃত শিশুটিকে ইতোমধ্যেই পরিবারের নিকট হস্তান্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে,গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোছাঃ বেলী বেগমের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
