আশুলিয়া থেকে জাহাঙ্গীর আলম রাজু : আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অবস্থিত পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘শারমিন গ্রুপ’-এর বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মো. জামাল উদ্দিন (৩৮) নামে এক সিনিয়র মার্চেন্ডাইজারের মৃত্যু হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন-এমন অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে নিহতের ভাই ইস্কান্দার আলী খান বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’র অভিযোগে এ মামলাটি করেন। মামলার আসামিরা হলেন-শারমিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইসমাইল হোসেন (৬৫) এবং তার ছেলে ও প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শারাফ হোসেন (৩৫)। নিহত জামাল উদ্দিন গাজীপুর সদর থানার উত্তর পূর্বরিয়া এলাকার সেকান্দার আলী খানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারমিন গ্রুপে সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার এজাহার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে জামাল উদ্দিন প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে যোগ দেন। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কারখানার পক্ষ থেকে তার মা কোহিনুর বেগমকে ফোন করে জানানো হয় যে, জামাল ভবনের আটতলা থেকে নিচে পড়ে গেছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সংবাদ পেয়ে স্বজনেরা দ্রুত কারখানা সংলগ্ন আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে ছুটে যান এবং সেখানে জামালের নিথর দেহ দেখতে পান।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে নিহতের ভাই ও মামলার বাদী ইস্কান্দার আলী বলেন, “খবর দেওয়ার পদ্ধতি ও ঘটনার ধরন দেখে শুরু থেকেই কারখানা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে আমাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। কারখানার ভেতরের লোকজন আমার ভাইয়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে ভবনের অষ্টম তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে কারখানার ভেতরে তার ওপর চলা অপ্রীতিকর ঘটনার কথা সে মোবাইলে তার স্ত্রী সাবিকুন নাহারকেও জানিয়েছিল।”
উক্ত বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম (পিপিএম-সেবা) জানান, খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তিনি আরও জানান “নিহতের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
