মঙ্গলবার | অক্টোবর ২০, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ ট্রলার ডুবিতে পিরোজপুরে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার, এখনও নিখোজ মা

পুজার আনন্দ বিষাদ :

ট্রলার ডুবিতে পিরোজপুরে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার, এখনও নিখোজ মা

এস,এম সিপার, পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলার নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের শংকর বেপারীর স্ত্রী রিনা বেপারী (৩৫) ও তার তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ুয়া শিশু কন্যা অদ্রিতা বেপারী (৮) পানিতে ডুবে যায়।

রাত ১২ টার দিকে বরিশালের ডুবরিদল মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করতে পারলেও মা রিনা বেপারী এখনো নিখোঁজ রয়েছে। আর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া শাহানাজ (তমা)।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) আনুমানিক রাত ৮.৩০ মিনিটের দিকে এঘটনা ঘটে পিরোজপুরের কালিগঙ্গা নদীত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ট্রলারের একযাত্রী জানায়, অতিরিক্ত যাত্রী ও কয়েকটি মটর সাইকেল ওঠানোর কারনে ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং নাজিরপুর প্রান্তেই ডুবে যায়। অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে ও স্থানীয়দের সহায়তায় শ্রীরামকাঠী বাজার কূলে উঠতে পারলেও শংকর বেপারীর স্ত্রী ও শিশু সন্তান নিখোঁজ হন।

স্থানীয় সূএে জানা গেছে, ঢাকার একটি সিকিউরিটি গার্ড প্রতিষ্ঠানে শংকর বেপারী চাকরি করেন। দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে নিজ জেলার নেছারাবাদ উপজেলার ভরতকাঠীর গ্রামের বাড়িতে আসেন। সোমবার রাতে পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী বাজার এলাকা থেকে পূজা দেখে ট্রলারযোগে স্ব-পরিবারে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। রাত আনুমানিক ৮.৩০ মিনিটের দিকে ৬০/৭০ জনেরও বেশি যাত্রী ও ৭/৮ টি মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রলারটি নাজিরপুর প্রান্তের শ্রীরামকাঠী বাজারের ফেরীঘাট এলাকায় নদীতে তলিয়ে যায়।

উদ্ধার হওয়া নিহত শিশু অদ্রিতার পিতা শংকর বেপারী জানান, আমি স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে পুজা দেখার পরে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হই এবং ফেরীঘাটে এসে ট্রলারে ওঠার পরে ট্রলারটি এক কাত হয়ে যায় তারপরেও ট্রলার চালক ঐ অবস্থায় চালানো শুরু করে এবং মুহুর্তের মাজে আমিসহ সকল যাএীরা নদীতে ডুবে যাই। রাতের অন্ধকারে কোন কুল কিনারা বুজতেছিলাম না। আমি নদীতে সাতরিয়ে কিছু সময় মেয়েকে ও তার মাকে খুজতে ছিলাম।

এক পর্যায়ে আমি সাতরে উঠতে পারছি কিন্তু এখনো আমার ওয়াইফ ও মেয়েকে খুজে পাইনি। শংকর বেপারী আরো জানান, ট্রলারটিতে প্রায় শতাধিক যাত্রীও ৭/৮ টি মোটরসাইকেল ছিলো।ট্রলারটির চালক ছিল ভরতকাঠীর মিরাজ ভাই, ওনার নিজের ট্রলার ওটা।

দুর্ঘটনাকবলিত স্থান ও নিখোঁজদের উদ্ধার পরিস্থিতি তদারকি করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ (তমা), সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আহসান হাবিব, পিরোজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান,নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম সহ নাজিরপুর ও নেছারাবাদ থানা পুলিশের যৌথ টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন।

​উদ্ধার অভিযানে নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক সোয়াইব হোসেন মুন্সি এবং পিরোজপুরের জেলা কর্মর্কতা রায়হানুর আশরাফ উপস্থিত ছিলেন।

নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তারিকুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ ব্যাক্তির উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও আমরা কাজ করে চলেছি। রাত ১২ টার দিকে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে ঠিক কি কারনে ট্রলারটি ডুবলো সে বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে । কোন ধরনের ত্রুটি থাকলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া শাহনাজ (তমা) জানান,আমরা জানতে পেরেছি ট্রলারটিতে প্রায় ৫০/৬০ জন যাত্রী ছিলো এবং ৫/৬ টি মোটরসাইকেলও ছিলো। দুর্ঘটনায় মা ও মেয়ে দুজন নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে ডুবরিদলের সহায়তায় শিশু মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। তার মাকে এখনো পাওয়া যায় নি। ট্রলার ডুবির ঘটনা যদি কারো অবহেলার কারনে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে সর্বোচ্চ শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে এই পরিবারকে সৎকারের জন্য ২০ হাজার টাকা প্রদান করবো।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা