বুধবার | অক্টোবর ২১, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ সমুদ্রসৈকতে সম্প্রীতির মিলনমেলা

কক্সবাজারে দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন :

সমুদ্রসৈকতে সম্প্রীতির মিলনমেলা

রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার : কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে লাবণী পয়েন্টে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য বিসর্জন উৎসব লাখো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সৈকতে সৃষ্টি হয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের অনন্য আবহ।

বিকেল ৩টার পর থেকেই কক্সবাজারের বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার বাদ্য আর ভক্তদের শোভাযাত্রায় প্রতিমাগুলো সমুদ্রসৈকতে আনা হয়। পরে বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ে একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে টানা পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘটে।

বিসর্জন ঘিরে সৈকতে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেক ভক্তের চোখে দেখা যায় অশ্রু। কারও কণ্ঠে ছিল দেবীবন্দনা, কেউ আবার সমুদ্রের পানি ছিটিয়ে নেন নিজের ও পরিবারের সদস্যদের শরীরে। বিদায়ের বিষাদ আর উৎসবের আনন্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় সৈকতজুড়ে।

এদিকে দুর্গাপূজার ছুটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় কক্সবাজারে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। বুধবার বিকেলে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরাও সৈকতে ভিড় করেন। একদিকে বঙ্গোপসাগরের ঢেউ, অন্যদিকে প্রতিমা বিসর্জনের বর্ণাঢ্য আয়োজন—সব মিলিয়ে সৈকত পরিণত হয় উৎসবমুখর জনসমুদ্রে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান ও পুলিশ সুপার এ এম সাজেদুর রহমান।

টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জালা বলেন, দুর্গাপূজার চার দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে চার থেকে পাঁচ লাখ পর্যটকের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তাঁদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব উপভোগ করেছেন। উৎসব সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে টুরিস্ট পুলিশ।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটলেও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে এই আয়োজন রেখে গেছে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের উজ্জ্বল বার্তা।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা