এইচ এন আলম, কক্সবাজার : কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় নামে-বেনামে ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি প্রতিযোগিতা ও মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। কোথাও কোথাও পরীক্ষার নামে ফি আদায়, মূল্যায়নে অস্বচ্ছতা ও খাতা দেখার ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন ও কার্যক্রমে শিক্ষা বিভাগের কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকায় বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। এসব পরীক্ষায় বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো আয়োজনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি একের পর এক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ভয় থেকে অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপে পড়ছে।
অভিভাবক দিদারুল ইসলাম বলেন, বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে শিশুদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে তারা অতিরিক্ত ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের একাংশের মতে, বৃত্তি পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই ও তাদের উৎসাহিত করা। কিন্তু যথাযথ তদারকি ছাড়া এসব পরীক্ষা আয়োজন করা হলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি পরীক্ষার ফি নির্ধারণ, প্রশ্নপত্র তৈরি, খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
তাঁদের মতে, বৃত্তি পরীক্ষার নামে অর্থ সংগ্রহ করা হলে সেই অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে আয়োজক সংগঠনের বৈধতা, অনুমোদন এবং পরীক্ষার মান যাচাই করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়তে পারে।
এ অবস্থায় অনুমোদনহীন বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন যাচাই, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষার চাপ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিরা।
অনুমতি বিষয় যা বলছে শিক্ষা বিভাগ
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমার জানামতে, কিশোর কণ্ঠ নামের একটি সংগঠনকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে কথা বলা হয়েছে।’
তবে বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত বৃত্তি পরীক্ষাগুলোর অনুমোদন, ফি আদায় এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
