সোমবার | অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ উখিয়ায় ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই পুরস্কৃত এসআই কিবরিয়া ও টিম

উখিয়ায় ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই পুরস্কৃত এসআই কিবরিয়া ও টিম

রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার : কক্সবাজারের উখিয়ায় তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি ছৈয়দুল বশর ওরফে ছিছিকে আটকের ঘটনায় বালুখালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই কিবরিয়া ও তাঁর টিমকে বিশেষ পুরস্কার দিয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। তবে ওই অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা বলা হলেও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, উদ্ধার করা হয়েছিল দেড় লাখ পিস ইয়াবা ও একটি নাইন এমএম পিস্তল। এ অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে জেলা পুলিশ।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে একটি মাদক সিন্ডিকেট অপপ্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ ও জব্দসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী জোড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে অস্থায়ী চেকপোস্টে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। এ সময় চালকসহ তিনজন পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া করে ছৈয়দুল বশর ওরফে ছিছিকে আটক করে। পরে অটোরিকশার চালকের আসনের নিচে রাখা একটি সাদা বস্তা থেকে পাঁচটি কার্টনে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

আটক ছৈয়দুল বশর পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়ার আব্দুস ছবুরের ছেলে। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও অপরাধসংক্রান্ত নথি (পিসিপিআর) পর্যালোচনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলা চলমান থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

তবে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, বৃহস্পতিবার দুপুরে উখিয়ার থাইংখালী স্টেশন পার হওয়ার পর অটোরিকশাটি থামিয়ে ছৈয়দুল বশরকে আটক করা হয়। তাঁদের ভাষ্য, ওই সময় দেড় লাখ পিস ইয়াবা ও একটি নাইন এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া এক লাখ পিস ইয়াবা জব্দতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি বা প্রমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান অভিযোগের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, “আমরা আমাদের জায়গায় চুল পরিমাণও সন্দেহের অবকাশ রাখিনি। মূলত, এই উপজেলার একটি মাদক সিন্ডিকেট চায় আমরা যেন কোনো ধরনের মাদকবিরোধী অভিযানে না নামি। পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযানে নীরব ভূমিকা পালন করলে তারা নিজেদের মতো মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাবে। পুলিশকে থামানোর জন্যই তারা এসব অপপ্রচার ছড়াচ্ছে।”

ওসি আরও বলেন, তিনি গত চার দিন ছুটিতে থাকায় থানায় ছিলেন না। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে। মাদক নির্মূলে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. অহিদুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন তাঁরা। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে কারও কাছে তথ্য-উপাত্ত থাকলে তা দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে পুলিশকে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগের মুখে পড়তে হয়। এতে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় দায়িত্ব পালন ও অভিযান পরিচালনায় কর্মকর্তাদের মধ্যে অনাগ্রহ তৈরি হতে পারে। তারপরও বর্তমান অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।

দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবির বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কিবরিয়া বলেন, “আমি, একজন এএসআই ও দুইজন কনস্টেবল মিলে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু কিছু মাদক ব্যবসায়ী আমার এবং আমার কর্মস্থল উখিয়া থানা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরির জন্য এসব প্রচার করছে।”

তিনি আরও বলেন, “ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে যদি আমি দোষী সাব্যস্ত হই, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেব।”

এসআই কিবরিয়া জানান, ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা হিসেবে বান্দরবানে তাঁর পোস্টিং হয়। ২০২৪ ও ২০২৫ সাল পর্যন্ত শিক্ষানবিশ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালে ঘুমধুমের বিশেষ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পান। প্রায় দুই মাস আগে তিনি উখিয়া থানায় যোগ দেন।

এদিকে, মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এসআই কিবরিয়া ও তাঁর টিমকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি সামনে এলেও উদ্ধার হওয়া ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিষ্পত্তি এখনো গুরুত্বপূর্ণ। পুরস্কার প্রদানের তারিখ, স্থান ও পুরস্কারদাতা কর্মকর্তার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে উদ্ধার করা মাদকের পরিমাণ, জব্দতালিকা, মামলার নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্তের ফলাফলেই ইয়াবা ও পিস্তল উদ্ধারের অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা