সোমবার | অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ কক্সবাজারে ১৭৯ বৌদ্ধবিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন

কক্সবাজারে ১৭৯ বৌদ্ধবিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন

রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার : কক্সবাজারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। জেলার সাতটি উপজেলায় ১৭৯টি বৌদ্ধবিহার, মন্দির ও প্যাগোডায় দুই দিনব্যাপী এ উৎসব উপলক্ষে চলছে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। ফানুসবাতির আলো, প্রার্থনা, প্রদীপ পূজা ও ধর্মীয় দেশনায় মুখর হয়ে উঠেছে বৌদ্ধ জনপদগুলো।

রোববার (২৫ অক্টোবর) উৎসবের প্রথম দিনে জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে শীলব্রত পালন, ধর্মীয় দেশনা, খাদ্য ও পানীয় দান, প্রদীপ পূজা এবং ফানুসবাতি উত্তোলনের আয়োজন করা হয়। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) বুদ্ধ পূজা ও প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

জেলা পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার সদরে ৩১টি, চকরিয়ায় ২৩টি, পেকুয়ায় একটি, মহেশখালীতে ১২টি, রামুতে ৩৪টি, উখিয়ায় ৬০টি এবং টেকনাফে ১৮টি বৌদ্ধবিহার, মন্দির ও প্যাগোডায় প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপিত হচ্ছে।

কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় বৌদ্ধমন্দিরের মহাসিংদোগি মাঠে উৎসব উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী পুণ্যার্থী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। শহরের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকার বৌদ্ধবিহারেও সকাল থেকে পুণ্যার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য তুলে ধরে কক্সবাজার কেজি অ্যান্ড মডেল হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মা উন টিন রাখাইন বলেন, প্রবারণার অন্যতম শিক্ষা হলো আত্মশুদ্ধি, আত্মবিশ্লেষণ এবং নিজের ভুল-ত্রুটি উপলব্ধি করে তা সংশোধন করা। বিশুদ্ধ বিনয়াচারে জীবন পরিচালনা ও ধর্মীয় আদর্শের পরিপন্থী কর্মকাণ্ড পরিহার করাও এ উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

তিনি বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমায় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাসব্যাপী বর্ষাব্রত সমাপ্ত হয়। এ সময় ভিক্ষু সংঘের কাছে নিজের ত্রুটি তুলে ধরে তা সংশোধন ও প্রায়শ্চিত্তের সুযোগ গ্রহণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুসারে, ভগবান গৌতম বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গে তিন মাসব্যাপী অভিধর্ম দেশনা শেষে প্রবারণা পূর্ণিমার তিথিতে সাংকাশ্য নগরীতে অবতরণ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এ কারণে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটির বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে।

মা উন টিন রাখাইন আরও বলেন, বুদ্ধের শিক্ষা ছিল বহুজনের হিত ও সুখের জন্য কল্যাণকর ধর্মবাণী ছড়িয়ে দেওয়া। প্রবারণা পূর্ণিমা মানুষকে মৈত্রী, করুণা, সংযম, বিনয় ও মানবকল্যাণের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে।

উৎসব উপলক্ষে ফানুসবাতির আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও আশপাশের এলাকা। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন পুণ্যার্থীরা। প্রবারণার শিক্ষা সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও শান্তির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা