বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ৫, ২০২৬
প্রচ্ছদ মুফতি মিছবাহ’র ৯ স্ত্রীর গল্প কি সত্য নাকি আলেম বিদ্বেষী ষড়যন্ত্র?

মুফতি মিছবাহ’র ৯ স্ত্রীর গল্প কি সত্য নাকি আলেম বিদ্বেষী ষড়যন্ত্র?

নিজস্ব প্রতিবেদক: একজন পরিচিত ইসলামি বক্তা, লেখক ও উদ্যোক্তা। তাঁকে ঘিরে কয়েক মাস ধরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। কখনো একাধিক বিয়ে, আবার কখনো ব্যক্তিগত ভিডিও ও মামলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এর মধ্যে নতুন করে সামনে এসেছে তার ২য় স্ত্রী (নাঈমা) কর্তৃক এক রোহিঙ্গা নারীকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এনে তিন দিন আটকে রাখার অভিযোগ।

মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের পেছনে রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করাই এই চক্রের উদ্দেশ্য। এ কাজে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচিত হুমায়রা জান্নাত ওরফে নাঈমা, সাবেক ব্যক্তিগত সচিব ইমরান আল হাসান এবং কয়েকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

অন্যদিকে, মিছবাহর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ে নিয়ে যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলোও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
প্রাপ্ত নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং মিছবাহর পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাপ্রবাহ অনুসন্ধান করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে।

মিছবাহর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচিত হুমায়রা জান্নাত ওরফে নাঈমা বাবার বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। মিছবাহর দাবি, বাসা ছাড়ার আগে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে বড় ধরনের কোনো সংকট ছিল না।

তবে বাসা ছাড়ার কারণ হিসেবে নাঈমা এবং তার পি এস ইমরানের পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ তোলেন মুফতী মিছবাহ। এ বিষয়ে নাঈমার বক্তব্য জানা যায়নি।

পরকীয়ার অপরাধ আড়াল করতেই তাঁর মিছবাহর ব্যক্তিগত জীবন, একাধিক বিয়ে এবং নারী সংক্রান্ত মিথ্যা গল্প সাজায় বলেও দাবি করেন হাবিবুর রহমান মিছবাহ।

এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি এসেছে এক রোহিঙ্গা নারীকে ঘিরে। মিছবাহর ৬ষ্ঠ স্ত্রী দাবি করে বক্তব্য দেওয়া ঐ নারীর বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছেন মুফতী মিছবাহ।

কথিত ঐ রোহিঙ্গা নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বক্তব্য দিয়েছিলেন, যেখানে মুফতী মিছবাহর সঙ্গে তাঁর বিয়ের দাবি সামনে আসে। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর আরেকটি বক্তব্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে মিছবাহর পক্ষ। সেখানে ওই নারী বলেছেন, তাঁকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এনে তিন দিন আটকে রাখা হয়েছিল এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ ঘটনায় নাঈমা, ইমরান, এস এম সাইফুল ইসলাম, আহমেদ নাঈম ও ডা. ইব্রাহীম খলিলের নাম এসেছে।
ওই নারীর বক্তব্যের সত্যতা এবং তাঁকে আটকে রাখার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তিনি কোথায় ছিলেন, কারা তাঁকে নিয়ে এসেছিলেন এবং কী পরিস্থিতিতে বক্তব্য দিয়েছিলেন, এসব প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ।

আরও একটি বিষয় সামনে এনেছেন ঐ রোহিঙ্গা নারী। তাঁর দাবি, নাঈমার সঙ্গে ওই আগে থেকেই পরিচয় ছিল তার। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ঢাকায় আসার সময় একটি প্র্যাঙ্ক ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা