শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ হাল ছাড়েননি জয়নাল : ৫০০ টাকার বাদামেই ৪০ বছর ধরে টিকে আছে একটি পরিবার

হাল ছাড়েননি জয়নাল : ৫০০ টাকার বাদামেই ৪০ বছর ধরে টিকে আছে একটি পরিবার

মাসুদ রানা, গাংনী (মেহেরপুর) : জীবনের কাছে হার মানেননি। রোদ-ঝড়-বৃষ্টি কোনো কিছুই থামাতে পারেনি তাকে। জীবনের ৫০টি বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রতিদিন ভোরে সাইকেলের প্যাডেলে পা রাখেন তিনি। কাঁধে ঝোলে ৩ কেজি বাদামের ব্যাগ। পাড়ি দেন ২০-৩০ কিলোমিটার পথ। এভাবেই ৪ সদস্যের সংসারের চাকা সচল রেখেছেন তিনি।

তিনি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মাইলমারি গ্রামের মোঃ জয়নাল হোসেন (৫০)।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে এই বাদাম বিক্রিই তার একমাত্র পেশা। যখন তার বয়স মাত্র ১০ বছর, তখন থেকেই এই পেশার সাথে জড়িয়ে পড়েন। ঘরে আছেন স্ত্রী ও দুই মেয়ে। উপার্জনের আর কোনো পথ নেই। সাইকেল আর বাদামের ব্যাগই তার শেষ সম্বল।

জয়নাল প্রতিদিন সকাল হলেই বেরিয়ে পড়েন। গ্রাম থেকে গ্রামে, হাট-বাজার ঘুরে বাদাম বিক্রি করেন। প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার বাদাম বিক্রি হয়। এই বিক্রি থেকেই যে সামান্য লাভ থাকে, তা দিয়েই চলে তার সংসার, মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ।

কিন্তু সব দিন সমান যায় না। আকাশ মেঘলা হলে,ঝড়-বাদল হলে সাইকেলের চাকা আর ঘোরে না। সেদিন ঘরে চুলা জ্বালানোই কষ্ট হয়ে যায়। তবুও কারো কাছে হাত পাতেন না তিনি।

এ বিষয়ে বাদাম বিক্রেতা জয়নাল হোসেন বলেন,আমি ৪০ বছর যাবত এই বাদাম বিক্রি করে আমার সংসার চালিয়ে যাচ্ছি। সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা আমি পাইনি। তবুও ভিক্ষা না করে দুই মেয়ে এবং স্ত্রীর মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দেওয়ার জন্য আমার এই লড়াই। যতদিন শরীরে শক্তি আছে,ততদিন এই লড়াই চালিয়ে যাবো।

সমাজের চোখে তিনি হয়তো একজন সামান্য বাদাম বিক্রেতা। কিন্তু এলাকাবাসীর চোখে তিনি একজন যোদ্ধা। তার ৪০ বছরের একটানা লড়াই একটি গোটা পরিবারকে বাঁচিয়ে রেখেছে, শিখিয়েছে আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে।

হিজলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান জানান, বাদাম বিক্রেতা জয়নাল মানুষের কাছে হাত না পেতে হাজার কষ্টের মধ্যেও জীবনের সাথে সংগ্রাম করে তার সংসারকে টিকিয়ে রেখেছে। তার এই সংগ্রাম হাজারো মানুষের অনুপ্রেরণা।

স্থানীয়রা জানান, জয়নাল খুবই পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। কখনো কারো কাছে সাহায্য চাননি। এমন মানুষের পাশে সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে তার পরিবারটা আরও একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারতো।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা