মোঃ মনজুর মোল্লা : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চটকদার বিজ্ঞাপন ও ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে অনুমোদনহীন ও নিম্নমানের কথিত ভেষজ ওষুধ বিক্রির প্রতারণা চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি “হালুয়া মহাব্বত” নামের একটি পণ্যের চটকদার বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার চিত্র উঠে এসেছে। “৫০০ গ্রাম হালুয়া মাত্র ১২০০ টাকা”, “৫-৭ দিনের মধ্যেই ফলাফল” এবং “নিজেকে বাঘ হিসেবে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ”—এমন মুখরোচক ও ভিত্তিহীন দাবি তুলে ১২০০ টাকায় এই কথিত হালুয়া বিক্রি করছে একটি চক্র।
লাইসেন্স ও অনুমোদনহীন বেআইনি কারবার
বিজ্ঞাপনে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারির প্রলোভন দেখালেও এই “হালুয়া মহাব্বত” তৈরির কোনো বৈজ্ঞানিক বা আইনি ভিত্তি নেই। ওষুধ প্রশাসন পরিদপ্তর (DGDA) বা বিএসটিআই (BSTI)-এর কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন কিংবা ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উন্মুক্ত পাত্রে বিষাক্ত বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশ্রিত করে এসব কথিত হালুয়া তৈরি করা হচ্ছে। ফেসবুকে যোগাযোগ করার জন্য দেওয়া রয়েছে ০১৮৩২১৪৯৫৩৯ নম্বরটি।
ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, অনুমোদনহীন এসব ভেষজ বা কেমিক্যালযুক্ত মিশ্রণ সেবনে মানবদেহে তাৎক্ষণিক কিছু কৃত্রিম উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা লিভার ও কিডনি সম্পূর্ণ অকেজো করে দিতে পারে। এছাড়া রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে “৫-৭ দিনে স্থায়ী সমাধান” কিংবা “বাঘ হওয়ার” মতো অবৈজ্ঞানিক বিজ্ঞাপনের কোনো স্থান নেই।
প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থার জোর দাবি
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (DNCRP), ওষুধ প্রশাসন পরিদপ্তর (DGDA), এবং পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রতি সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের আকুল আবেদন—অনলাইনে সক্রিয় এসব প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অনুমোদনহীন “হালুয়া মহাব্বত” প্রস্তুতকারক ও ফেসবুকের মাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপনদাতা চক্রটিকে অনতিবিলম্বে চিহ্নিত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পেজগুলো বন্ধ করার জোরালো দাবি জানানো হচ্ছে
