রবিবার | সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামে দেরিতে শুরু ধান রোপণ

বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামে দেরিতে শুরু ধান রোপণ

ওমর ফারুক ,মাতামুহুরী প্রতিনিধি : বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকা দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতেঅবশেষে ধানের চারা রোপণের কাজ শুরু করেছেন কৃষকেরা। দেরিতে হলেও চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়ার বিভিন্ন বিলের শত শত একর জমিতে আবারও কৃষকের ব্যস্ততা দেখা দিয়েছে।

চলতি বর্ষায় বন্যার পানিতে এসব এলাকার কৃষিকাজ ও সবজি চাষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানি দীর্ঘদিন জমিতে আটকে থাকায় স্বাভাবিক সময়ে চাষাবাদ শুরু করতে পারেননি কৃষকেরা। জলাবদ্ধতা কাটিয়ে জমি চাষের উপযোগী হতে প্রায় এক থেকে দেড় মাস অতিরিক্ত সময় লেগেছে।

সম্প্রতি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমে আসায় এবং বিলের পানি নেমে যাওয়ায় কৃষকেরা নতুন করে জমি প্রস্তুতের কাজে নেমেছেন। প্রথমে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হলেও ভাদ্র মাসের শেষদিকে এসে নিচু ও দীর্ঘদিন পতিত থাকা জমিতেও চাষাবাদ শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকেরা জমি থেকে কচুরিপানা ও বিভিন্ন ধরনের আগাছা পরিষ্কার করে জমি চাষের উপযোগী করছেন। এরপর জমি প্রস্তুত করে ধানের চারা রোপণ করছেন তারা। দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে কৃষকের এমন ব্যস্ততায় আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে।

চকরিয়ার এক কৃষক আলী মদন বলেন, “দেরি হলেও বর্গা নেওয়া ৪০ শতক জমিটুকু চাষ করতেই হবে। না হলে আমরা খাব কী? অনেক কষ্ট হলেও জমিতে ধান লাগানোর চেষ্টা করছি।”

তার মতো দক্ষিণ চট্টগ্রামের আরও অনেক কৃষক দেরিতে হলেও বিলে ধানের চারা রোপণের কাজ শুরু করেছেন। কৃষকদের আশা, বন্যার পানিতে দীর্ঘদিন জমি ডুবে থাকলেও এবার জমিতে পলি পড়েছে। ফলে সময়মতো পরিচর্যা করতে পারলে ধানের ফলন ভালো হতে পারে।

কৃষকদের মতে, প্রতিবছর বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে এসব নিচু জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে আমন মৌসুমে ধান রোপণে প্রায় এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত বিলম্ব ঘটে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের বাড়তি শ্রম ও খরচ বহন করতে হয়।

তবে এবার বন্যার পর জমিতে জমে থাকা পলিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কৃষকেরা। তাদের প্রত্যাশা, পলিতে জমির উর্বরতা বাড়ায় দেরিতে চাষাবাদ শুরু হলেও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা