বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশবরিশাল দারাজ মিস্ট্রি বক্স নামে অনলাইন প্রতারণা

দারাজ মিস্ট্রি বক্স নামে অনলাইন প্রতারণা

এম.আর.প্রিন্স, বরিশাল ব্যুরো প্রধান : সোস্যাল মিডিয়ায় ফেসবুক ওপেন করলেই দেখা যায় মাত্র ৫৯ টাকায় দারাজ মিস্ট্রি বক্স নামে আকর্ষণীয় গিফট আইটেম সহ লোভনীয় বিজ্ঞাপন । যা দেখে প্রলুব্ধ হয়ে হাজার হাজার অনলাইন গ্রাহক প্রতারণার স্বীকার হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে ।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, কয়েকটি প্রতারক চক্রের মাধ্যমে বরিশাল বিভাগ সহ দেশব্যাপী এই প্রতারণার বিস্তার । বিজ্ঞাপনের অর্ডার বাটনে ক্লিক করলেই কয়েকটি অপসন আসে। ৪টি, ৬টি, ১০টি আইটেমর গিফট ভাউচার থেকে পছন্দ মতো ক্লিক করে অনলাইন কুরিয়ার চার্জ সহ ক্যাশ অন ডেলিভারিতে মূল্য পরিশোধ করতে বলা হয়।

কিন্তু শর্ত থাকে আগে পেমেন্ট ছাড়া খোলা যাবেনা । এই শর্তে বরিশালের নথুল্লাবাদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক অনলাইন কুরিয়ার ডেলিভারি চার্জ সহ সমপরিমাণ মূল্য পরিশোধ করে ১০টি আইটেমের গিফট বক্স নিয়ে খুলে দেখে প্রত্যেকটি প্যাকেটে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকার পণ্য রয়েছে ।

অথচ প্রতিটি পণ্য বাবদ ৫৯ টাকা এবং সাথে কুরিয়ার ডেলিভারি চার্জ রয়েছে । একই সিস্টেমে জিয়া সড়কের এক গ্রাহক ১০টি আইটেমের গিফট ভাউচার বাবদ ৬৯০ টাকা পরিশোধ করে সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৭০ টাকার পণ্য পেয়েছে । কমন পণ্য গুলো হলো ছোট চিরুনি, কটনবার, মিনি পেস্ট, কলম, ছোট বল, মাছের আইস ছাড়ানোর যন্ত্র , চুলবাঁধার রাবার, ক্লিপ সহ ভ্যানে বিক্রি করা ছোট ছোট সস্তা নিম্ন মানের পণ্য । অথচ চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে দেখানো হয় দামী এবং ব্রান্ডের পণ্য ।

এ বিষয়ে বরিশালের নথুল্লাবাদের গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছে দেয়া স্টেড ফাস্ট কুরিয়ারের ডেলিভারি ম্যানের ০১৮৯৭৭৩৭৭৫৬ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমাদের কিছুই করার নেই । আমরা শুধু কুরিয়ার চার্জ থেকে কমিশন পাই ।”তার দেয়া কর্তৃপক্ষের আরেকটি মোবাইল ০১৯০৬৭৭০০৪০ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি এলোমেলো ভাবে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন ।এসব ক্ষেত্রে পণ্য সরবরাহে পাঠাও, স্টেড ফাস্ট সহ বেশ কিছু অনলাইন কুরিয়ার যুক্ত রয়েছে ।

এদিকে দারাজ তাদের অফিসিয়াল পেজে জানিয়েছেন, তাদের এখন ‘মিস্ট্রি বক্স’ নামে কোন অফার চলমান নেই । সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন ।

দারাজ-এর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অননুমোদিত ফেসবুক গ্রুপ, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে ‘‘মিস্ট্রিবক্স’ বিক্রির নামে প্রতারণার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব দেখভাল করার সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোর যথাযথ নজরদারি ও আইনের প্রয়োগের অভাবে অনলাইন মার্কেটিংয়ে প্রতারণা ও নৈরাজ্য চলমান ।
মার্কেটিং বিভাগের কয়েকজন অভিজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা দৈনিক জনতা পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানান, অনলাইনে ক্রয়ের ক্ষেত্রে সকলকে সচেতন হয়ে যাচাই বাছাই করে নিরাপদ ও সুরক্ষিতভাবে কেনাকাটা করা প্রয়োজন । ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতারিত হলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে আবেদন করা যেতে পারে। অভিযোগ প্রমানিত হলে জরিমানার ২৫% অভিযোগকারীকে প্রদান করা হয় ।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা