কুলাউড়া থেকে মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জুয়েল : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে পৌরশহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভালো থাকলেও বর্তমানে যাওয়া আসার মধ্যেই তাকে গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরো শোচনীয় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি। শহরে দিনে মোট ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা এবং বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে রাতের দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পরিবারের ভোগান্তি বাড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফ্যান, লাইট, ফ্রিজ ও কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো না যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়রা বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের এই সমস্যা নতুন নয়। এর আগেও কুলাউড়ায় দিন-রাত মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ উঠে। সাম্প্রতিক সময়েও একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে গত ১২ আগস্ট থেকে রাত ৮টার মধ্যে শপিংমল, মার্কেট ও সাধারণ দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বিলবোর্ডের আলো বন্ধ এবং অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে। তবে কুলাউড়ার বিভিন্ন বাজারে নির্ধারিত সময়ের পরও দোকানপাট খোলা থাকার অভিযোগ রয়েছে। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগের বিপরীতে শুধু দোকানপাট নির্ধারিত সময়ের পর খোলা থাকাকেই লোডশেডিংয়ের কারণ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি, জ্বালানি সংকট, বিতরণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, অতিরিক্ত চাপ ও কারিগরি ত্রুটিও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ হতে পারে।
কুলাউড়া-জুড়ী-বড়লেখা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যবহৃত ৩৩ কেভি লাইনের পুরোনো অবকাঠামো নিয়েও অতীতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পুরোনো তার, ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি ও নিম্নমানের ইনসুলেটরের মতো সমস্যার কথাও বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে। এদিকে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিতরণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ২০২৬ সালে একাধিক সরকারি কাজ চলমান রয়েছে।
এ অবস্থায় গ্রাম ও শহরে লোডশেডিংয়ের সময়ের পার্থক্য কেন হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো কার্যকর সময়সূচি রয়েছে কি না তা জানতে চান স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ প্রকাশের পাশাপাশি সম্ভব হলে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সময়সূচি জানানো হোক।
বিশেষ করে রাতের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দীর্ঘ লোডশেডিং কমানো এবং গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
কুলাউড়ার ১৩ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মানুষের এখন একটাই প্রশ্ন বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ার শেষ কোথায়?
