শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ ঘাটাইল ইউএনও’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির যত অভিযোগ

ঘাটাইল ইউএনও’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির যত অভিযোগ

মনোয়ার হোসেন সোহেল, ঘাটাইল টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : লক্ষিন্দর ইউনিয়নে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের বনায়ন প্রকল্পের গাছ কাটার কাজ দরপত্রের মাধ্যমে পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। কাজ চলার এক পর্যায়ে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নেন মাহমাদুল হাসান। ঠিকাদারদের অভিযোগ, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি গাছের পরিমাপ ও মূল্য নির্ধারণে অসংগতির কথা বলে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে কাজ পুনরায় শুরুর অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ দাবি করা হয়। তাদের দাবি, প্রথমে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হলেও পরে দরকষাকষির মাধ্যমে তিন লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। মাহমাদুল হাসানের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিবি’র অতিরিক্ত বরাদ্দের ৪৬ লাখ টাকা প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগে উত্তোলনের অভিযোগও ওঠে।

স্থানীয়রা জানান, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া কোটেশনের মাধ্যমে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ ছাড় করা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামও উঠে আসে। এরমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী উজ্জল মিয়ার স্ত্রী ও তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে অর্থ কেটে রাখার চাপ, স্কুল কমিটি গঠন এবং স্কুল মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট বসানোসহ বিভিন্ন কাজে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেন স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দা। একাধিক অভিযোগ ওঠার পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ঘাটাইল থেকে তাঁকে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু এখনও স্বপদে বহাল তিনি।

ঘাটাইলে তাঁর কর্মকালীন সময়ে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পদাধিকার বলে ঘাটাইল পৌরসভার প্রশাসক তিনি। পৌরসভার আয়-ব্যয়ের তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করায় গতকার বুধবার ফোন করে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন খাত থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পৌরসভার আয়-ব্যয়ের তথ্য চেয়ে গতকাল বুধবার তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেন সমকালের ঘাটাইল উপজেলা প্রতিনিধি মাসুম মিয়া। এতে তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মাহমাদুল হাসান। ফোন করে হুমকি দিয়ে ইউএনও বলেন, ‘আপনি তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন। এটা ফাজলামি ছাড়া অন্যকিছু না। আপনি যদি অফেনসিভ মোডে (আক্রমণাত্মক) যান আমি ইউএনও অফেনসিভমোডে যাব। আপনি কার কথা শুনে এ কাজ করতেছেন? এটা অফেনসিভ মোড।’

এসব বিষয়ে মাহমাদুল হাসানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য সরকারি মোবাইল নম্বরে বার বার কল করার পরও ধরেননি। পরে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মেসেজ দিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হককে কয়েক দফা ফোন করলেও ধরেননি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা